ভিড়ের কারণে ট্রেনের দরজায় দাঁড়ানো অবহেলা নয়: রেলের ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ করল বম্বে হাইকোর্ট

মামলার মূল বক্তব্য
মুম্বাইয়ের শহরতলির ট্রেনে ভ্রমণের সময় ভিড়ের কারণে দরজার কাছে দাঁড়ানো বা ফুটবোর্ডে (footboard) ভ্রমণকে যাত্রীর অবহেলা (negligence) বলে গণ্য করা যাবে না—বম্বে হাইকোর্ট এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। আদালত রেল কর্তৃপক্ষের ‘সহযোগী অবহেলার’ (contributory negligence) দাবি খারিজ করে দিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট
এই মামলাটি একটি রেল দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সংক্রান্ত। ২০০৫ সালের ২৮ অক্টোবর, ওই ব্যক্তি পশ্চিম রেলওয়ের ভাইন্দর (Bhayendar) থেকে মেরিন লাইন্স (Marine Lines)-এ যাওয়ার সময় ট্রেন থেকে পড়ে যান এবং পরে আঘাতের কারণে মারা যান।
রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল (Railway Claims Tribunal) মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিলে, ভারত সরকার (রেল কর্তৃপক্ষ) ২০০৯ সালের ডিসেম্বরের সেই রায়ের বিরোধিতা করে হাইকোর্টে আপিল করে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও রায়
বিচারপতি জিতেন্দর জৈন (Justice Jitendra Jain)-এর একক বেঞ্চে রেলের আপিলটি খারিজ করে দেওয়া হয়। আদালত রেল কর্তৃপক্ষের এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে যে, ট্রেনের দরজার কাছে বা ফুটবোর্ডে দাঁড়ানো মৃত ব্যক্তির নিজের অবহেলার ফল।
১. ভিড়ের বাস্তবতা: আদালত জোর দিয়ে বলে যে ভিআর থেকে চার্চগেট পর্যন্ত রুটে, বিশেষ করে সকালের ব্যস্ত সময়ে, ট্রেনে অত্যধিক ভিড় থাকে। ভাইন্দর স্টেশনের মতো স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের পক্ষে কামরায় ওঠা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন:
“এই পরিস্থিতি আজও বিদ্যমান; অতএব, একজন যাত্রী দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকলে তাকে অবহেলাকারী বলে ধরে নেওয়া যায় না। যদি একজন ব্যক্তিকে তার কাজের জন্য ভ্রমণ করতে হয় এবং কামরার ভেতরে প্রবেশ করা খুব কঠিন হয়, তবে যাত্রীর কাছে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না।”
আদালত আরও উল্লেখ করে, আইনে এমন কোনো বিধান নেই যে ভিড়ের কারণে দরজার কাছে দাঁড়ানো কোনো যাত্রী পড়ে গেলে তাকে ‘অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার’ (untoward incident) হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
২. বৈধ যাত্রী হিসেবে প্রমাণ: রেলওয়ে আরও দাবি করেছিল যে, দুর্ঘটনার পর টিকিট বা পাস না পাওয়ায় মৃত ব্যক্তি বৈধ যাত্রী ছিলেন না। তবে আদালত দেখে যে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী তাঁর লোকাল ট্রেনের পাস এবং পরিচয়পত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছিলেন। আদালত নিশ্চিত করে যে তিনি একজন সৎ যাত্রী (bona fide passenger) ছিলেন। আদালত জানায়, দুর্ঘটনার দিন পাস বাড়িতে ভুলে গেলেও ক্ষতিপূরণের অধিকার থেকে পরিবারকে বঞ্চিত করা যায় না।
অবশেষে, আদালত ট্রাইব্যুনালের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো ত্রুটি খুঁজে পায়নি এবং রেলওয়ের আপিল খারিজ করে দেয়।



