শালবনি জমি মামলায় অভিষেকের সহকারী সুমিত রায়কে গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের
তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার শর্তে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা, জেরায় আইনজীবী সঙ্গে রাখা যাবে না

সুপ্রিম কোর্ট শালবনির কথিত সরকারি জমি দখল মামলায় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়কে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দেশের শীর্ষ আদালত তাঁর গ্রেফতারির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং তদন্তকারী সংস্থা যখনই ডাকবে, তখনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির থাকতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট করেছে, এই অন্তর্বর্তী সুরক্ষা কোনওভাবেই তদন্তে বাধা সৃষ্টি করার সুযোগ নয়। তদন্তের স্বার্থে সুমিত রায়কে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
মামলার প্রেক্ষাপট
এই মামলাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি এলাকায় সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল এবং প্রতারণার মাধ্যমে জমির মালিকানা হস্তান্তরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তদন্তে সুমিত রায়ের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে।
তদন্তকারী সংস্থা আদালতকে জানায়, একাধিকবার চেষ্টা করেও সুমিত রায়কে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। সেই প্রেক্ষিতে মেদিনীপুরের একটি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
পরে সুমিত রায় আগাম জামিনের আবেদন করলে কলকাতা হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, তদন্তের এই পর্যায়ে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
শুনানিতে সুমিত রায়ের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং তদন্তকারী সংস্থা যখনই ডাকবে, তখনই হাজির হবেন।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেন, তদন্তের স্বার্থে সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এই অবস্থায় বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, যখন আবেদনকারী তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছেন, তখনও কেন গ্রেফতারের উপর এত জোর দেওয়া হচ্ছে।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন,
“আমি আশা করি, আপনি বলতে চাইছেন না যে সমস্যাটা পুলিশ।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত ইঙ্গিত দেয় যে তদন্তে সহযোগিতা নিশ্চিত করাই মূল বিষয়, শুধুমাত্র গ্রেফতারই একমাত্র পথ নয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
অন্তর্বর্তী আদেশে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সুমিত রায়কে তদন্তকারী সংস্থার ডাকে উপস্থিত হতে হবে এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, প্রয়োজনীয় বিরতি-সহ, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপলব্ধ থাকতে হবে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর সঙ্গে কোনও আইনজীবী বা অন্য কোনও ব্যক্তি থাকতে পারবেন না। তদন্তকারী সংস্থার প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিয়ে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
একই সঙ্গে আদালত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে, তদন্ত চলাকালীন সুমিত রায়ের গ্রেফতার আপাতত স্থগিত থাকবে।
আদালতের সিদ্ধান্ত
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার শর্তে সুমিত রায়কে আপাতত গ্রেফতার করা যাবে না। তবে এই সুরক্ষা নিঃশর্ত নয়। তদন্তে অসহযোগিতা করলে বা আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করলে তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবে।
কেস টাইটেল: Sumit Roy v. State of West Bengal
কেস নম্বর: Diary No. 46817/2026



