হাইকোর্ট

প্রবেশ না হলে তা ধর্ষণ নয়, ‘ধর্ষণের চেষ্টা’; গুরুত্বপূর্ণ রায় জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্টের

Showkat Ahmad Seer v. Union Territory of Jammu & Kashmir (J&K and Ladakh High Court)

জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ এক রায়ে বলেছে, যদি অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর উরুর মাঝখানে নিজের যৌনাঙ্গ ঘষে বীর্যপাত ঘটায়, কিন্তু প্রকৃত অর্থে যৌনাঙ্গের প্রবেশ বা পেনিট্রেশন না ঘটে, তাহলে সেটি সম্পূর্ণ ধর্ষণের অপরাধ নয়, বরং ধর্ষণের চেষ্টা (Attempt to Rape) হিসেবে গণ্য হবে।

বিচারপতি সঞ্জয় পরিহার বলেন, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড থেকে ধর্ষণের স্পষ্ট উদ্দেশ্য প্রমাণিত হলেও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণে পেনিট্রেশন প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় তাঁকে শুধুমাত্র রানবীর পেনাল কোড (RPC)-এর ৩৭৬ ধারায় নয়, ৩৭৬ ধারার সঙ্গে ৫১১ ধারা (ধর্ষণের চেষ্টা) অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করা উচিত।

এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় সংশোধন করে। ট্রায়াল কোর্ট অভিযুক্ত শওকত আহমদ সিরকে ধর্ষণের অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিল। হাইকোর্ট সেই সাজা কমিয়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

মামলাটি ২০১৬ সালের জুলাই মাসের। অভিযোগ অনুযায়ী, নাবালিকা এক কিশোরী সেচের কাজে মাঠে গেলে অভিযুক্ত তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে তার পায়জামা ছিঁড়ে যৌন নির্যাতন চালানো হয়। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে তার মা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে দেখেন বলে দাবি করেন।

আপিলের শুনানিতে অভিযুক্তের আইনজীবী চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের উপর জোর দেন। মেডিক্যাল পরীক্ষায় দেখা যায়, ভুক্তভোগীর হাইমেন অক্ষত ছিল এবং চিকিৎসক স্পষ্টভাবে জানান যে যৌন মিলনের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে পরীক্ষায় ভুক্তভোগীর পেরিনিয়াম (যোনিপথ ও মলদ্বারের মধ্যবর্তী অংশ)-এ একটি ক্ষতচিহ্ন ধরা পড়ে।

হাইকোর্ট জানায়, চিকিৎসা-প্রমাণ অনুযায়ী পেনিট্রেশন না হলেও ওই আঘাতকে উপেক্ষা করা যায় না। আদালতের মতে, অভিযুক্ত সম্ভবত ভুক্তভোগীর অল্প বয়স বিবেচনা করে এবং সম্ভাব্য পরিণতির কথা ভেবে পেনিট্রেশন না করে উরুর মাঝখানে যৌনাঙ্গ ঘষে বীর্যপাত ঘটিয়েছিল, যার ফলে ওই ক্ষত সৃষ্টি হয়।

সুপ্রিম কোর্টের Madan Lal v. State of J&K মামলার রায়ের উল্লেখ করে হাইকোর্ট জানায়, পোশাক খুলে ফেলা, ভুক্তভোগীকে জোর করে বিবস্ত্র করা এবং পেনিট্রেশন ছাড়াই যৌনাঙ্গ ঘষে বীর্যপাত ঘটানো কেবল শ্লীলতাহানির পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ধর্ষণের সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই কারণে আদালত নিম্ন আদালতের ধর্ষণের সাজা পরিবর্তন করে ধর্ষণের চেষ্টা-র অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে অভিযুক্তের কারাদণ্ড পাঁচ বছরে নামিয়ে আনে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button