খবরাখবর

২০২০ সালের দাঙ্গা ছিল ক্ষমতা পরিবর্তনের চেষ্টা, অনেকটাই নেপাল বাংলাদেশের মতো

দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্তদের জামিনের আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে দিল্লি পুলিশের তরফে এক গুরুত্বপূর্ণ দাবি করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্র বাংলাদেশ ও নেপালের মতো শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের (Regime Change) উদ্দেশে করা হয়েছিল। এই সহিংসতা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি পরিকল্পিত এবং সুসংগঠিত চক্রান্ত

 মূল অভিযোগ ও প্রমাণ

দিল্লি পুলিশের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) এস ভি রাজু আদালতকে জানিয়েছেন যে, দাঙ্গাকারীরা কেবল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) প্রতিবাদ করছিল না; তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সহিংসতা ছিল একটি “সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র”। ঠিক যেমনটা নেপাল ও বাংলাদেশে হয়েছিল।

  • সময় নির্ধারণ: দাঙ্গার সময় এমনভাবে ঠিক করা হয়েছিল যাতে তা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সঙ্গে মিলে যায়। পুলিশের দাবি, এর লক্ষ্য ছিল বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে নিয়ে যাওয়া এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও নেপালের মতো শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি করা।

  • হিংসার চিত্র: ASG রাজু আদালতে ভিডিও ফুটেজ দেখান, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে বিক্ষোভকারীরা পাথর ছোঁড়া, সিসিটিভি ক্যামেরা ঢেকে দেওয়া এবং অ্যাসিডের বোতল, লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিল। এই দাঙ্গায় ৫৩ জন নিহত এবং ৫৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন, এবং প্রচুর সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়।

  • ষড়যন্ত্রের গভীরতা: দিল্লি পুলিশ আরও অভিযোগ করেছে যে এই ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য ছিল দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে ব্যাহত করা এবং “চিকেন নেক” করিডোর নিয়ে আলোচনা করে উত্তর-পূর্ব ভারতে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া।

  • UAPA-এর ধারা: পুলিশ যুক্তি দিয়েছে যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে UAPA (Unlawful Activities Prevention Act)-এর ধারা ৪৩ডি(৫)-এর মানদণ্ড পূরণ হওয়ায় তারা জামিনের যোগ্য নয়। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও পূর্বে এই দাঙ্গাকে “জাতিগত বিভাজন ঘটানোর” একটি “পূর্ব পরিকল্পিত, সুপরিকল্পিত ও সুবিন্যস্ত দাঙ্গা” বলে অভিহিত করেছিলেন।

মূল বক্তব্য

দিল্লি পুলিশ এই মামলাটিকে একটি গুরুতর জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে, যেখানে তথাকথিত “বুদ্ধিজীবীরা সন্ত্রাসীদের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক” হয়ে উঠছেন বলে মন্তব্য করা হয়েছে। তাদের মতে, অভিযুক্তরা ট্রায়ালের বিলম্বের সুবিধা নিতে পারে না। এই দাঙ্গা CAA-এর বিরুদ্ধে সামান্য প্রতিবাদ ছিল না, বরং এটি ছিল “শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন”, “অর্থনৈতিক বঞ্চনা” এবং “সারাদেশে বিশৃঙ্খলা” সৃষ্টির একটি বৃহত্তর চক্রান্ত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button