অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জাত বা কমিউনিটি সার্টিফিকেট পুনর্বিবেচনা: বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠাল মাদ্রাজ হাইকোর্ট

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জাত (কমিউনিটি) সার্টিফিকেট বা জাতিগত মর্যাদা যাচাই করার জন্য সরকার প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারে কিনা— এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মাদ্রাজ হাইকোর্ট একটি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি মণীন্দ্র মোহন শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি জি অরুল মুরুগান-এর ডিভিশন বেঞ্চ গত ২৮ অক্টোবর এই আদেশ দেয়। আদালত লক্ষ করেছে যে, এই বিষয়ে হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চের মধ্যে পরস্পরবিরোধী রায় রয়েছে, যার ফলে একটি “সুস্পষ্ট মতভেদ” তৈরি হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে কোয়েম্বাটুরের দুই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আর. গুরুস্বামী এবং ভি. সোমাসুন্দরামের দাখিল করা দুটি পিটিশনের ভিত্তিতে।
পিটিশনার গুরুস্বামী তাঁর কমিউনিটি সার্টিফিকেটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ২০১৮ সালে তামিলনাড়ু রাজ্য-স্তরের স্ক্রুটিনি কমিটি (TNSLSC) কর্তৃক জারি করা একটি শোকজ নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ২০২২ সালের মে মাসে তিনি অবসর নেওয়ার পর এই তদন্ত প্রক্রিয়া আর চলতে পারে না। একইভাবে, সোমাসুন্দরাম দাবি করেন যে, অবসর গ্রহণের পর এই ধরনের পদক্ষেপগুলি আইনত অনুমোদিত নয় এবং এর কারণে তাঁর পেনশন পেতে বিলম্ব হচ্ছে।
উভয় আবেদনকারীই দাবি করেন যে, ১৯৯৫ সালের আগে ইস্যু করা কমিউনিটি সার্টিফিকেটগুলি পুনরায় যাচাই করার আওতা থেকে মুক্ত এবং এই বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায়ও তাদের পক্ষে ছিল।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকার এর বিরোধিতা করে যুক্তি দেয় যে, এমন কিছু পূর্বের রায় রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, অবসর গ্রহণের পরেও জাতি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আইনত চলতে পারে, তা শংসাপত্রটি যখনই ইস্যু হোক না কেন।
আদালত এই পরস্পরবিরোধী মতামতের বিষয়টি স্বীকার করে বিষয়টির স্পষ্টতা আনার জন্য বৃহত্তর বেঞ্চে তিনটি মূল প্রশ্ন উত্থাপন করেছে: ১. অবসর গ্রহণের পরেও কি কমিউনিটি সার্টিফিকেট বা জাতিগত মর্যাদা যাচাই করা বৈধ? ২. ১৯৯৫ সালের আগে ইস্যু করা সার্টিফিকেট বা প্রাপ্ত চাকরি কি পরীক্ষা করা যেতে পারে? ৩. অবসরের আগে শুরু হওয়া তদন্ত কি অবসর গ্রহণের পরেও চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে?
এই প্রশ্নগুলির মীমাংসার জন্যই বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।



