খবরাখবর

বিচারকদের বিরুদ্ধে ইউটিউবে কটূক্তির অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর বহাল, মামলা খারিজে রাজি নয় মাদ্রাজ হাইকোর্ট

R. Varadaraj v. State of Tamil Nadu

মাদ্রাজ হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিল করতে অস্বীকার করেছে। বিচারকদের সম্পর্কে ইউটিউব চ্যানেলে অত্যন্ত অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের তদন্ত চলছে। আদালত জানিয়েছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে এফআইআর বাতিল করার কোনও কারণ নেই।

R. Varadaraj v. State of Tamil Nadu মামলায় বিচারপতি এম. নির্মল কুমার এই নির্দেশ দেন।

আবেদনকারী আর. বরদারাজ একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক। বর্তমানে তিনি মাদ্রাজ হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করেন এবং “নেতাজি মাক্কাল কাচ্চি” নামে একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতি। তাঁর পরিচালিত “Nethaji TV” নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলের ৪.৫ লক্ষেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর তামিলনাড়ুর কারুর জেলায় তামিলাগা ভেত্ত্রি কাজাগম (TVK)-এর এক সমাবেশে পদপিষ্ট হয়ে ৪১ জনের মৃত্যু এবং বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দেন বিচারপতি এন. সেথিলকুমার। সেই আদেশের পর বরদারাজ তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে বিচারপতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বিচারপতির সঙ্গে ডিএমকের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ করেন এবং অভিনেতা-রাজনীতিক সি. জোসেফ বিজয় ও তাঁর দল TVK-কে নিয়ে বিচারপতির মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন।

বরদারাজ আদালতে নিজেই নিজের পক্ষে সওয়াল করে বলেন, তিনি শুধুমাত্র SIT গঠনের সিদ্ধান্ত এবং তদন্তের সমালোচনা করেছেন। কোনও বিচারকের ব্যক্তিগত জীবন বা ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে মন্তব্য করেননি। তিনি আরও দাবি করেন, সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার তাঁর রয়েছে এবং আগের রাজ্য সরকার তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করে মিথ্যা মামলা করেছে।

অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কোনও বিচারিক আদেশের সাধারণ সমালোচনা নয়। ভিডিওগুলিতে একজন বর্তমান বিচারপতি এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে এ ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।

শুনানির সময় তদন্তের একটি সমস্যার কথাও আদালতকে জানানো হয়। পুলিশ বরদারাজের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করলেও সেটি ফেস লক দ্বারা সুরক্ষিত থাকায় ফরেনসিক বিজ্ঞান বিভাগ ফোনটি খুলতে পারেনি। তদন্তের স্বার্থে ফোনটি খুলে পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে জানায় রাজ্য।

এরপর বরদারাজ আদালতে সম্মতি দেন যে তিনি তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ফরেনসিক বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালকের সামনে হাজির হয়ে মোবাইল ফোনটি আনলক করবেন, যাতে ফরেনসিক পরীক্ষা করা যায়।

এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট জানায়, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আবেদনকারী নিজেও তদন্তে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন। তাই এই পর্যায়ে এফআইআর বাতিল করার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। ফলে আদালত তাঁর ফৌজদারি মূল আবেদন (ক্রিমিনাল অরিজিনাল পিটিশন) খারিজ করে দেয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button