খবরাখবর

NALSAR বিতর্কে আইন পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমা চাইলেন BCI চেয়ারম্যান, বললেন ছাত্রদের উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ

CJI সূর্য কান্তের সমাবর্তনে যোগ দেওয়া ঘিরে বিতর্কে BCI-এর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নের পর এল মানন কুমার মিশ্রর ক্ষমাপ্রার্থনা

স্বাধীনতা দিবসে আইন পড়ুয়াদের উদ্দেশে প্রকাশিত একটি চিঠিতে ক্ষমা চাইলেন Bar Council of India (BCI)-এর চেয়ারম্যান মানন কুমার মিশ্র। NALSAR University of Law, Hyderabad এবং National Law School of India University (NLSIU), Bengaluru-এর পড়ুয়াদের একাংশের সমালোচনার পর এই ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়েছে।

সম্প্রতি Chief Justice of India (CJI) সূর্য কান্তের NALSAR-এর ২০২৬ সালের সমাবর্তনে যোগদান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই বিতর্ক সামলাতে BCI-এর নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে আইন পড়ুয়াদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

যদিও নিজের ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠিতে মিশ্র সরাসরি কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করেননি কিংবা নির্দিষ্ট বিতর্কের বিষয়ে কোনও অবস্থান প্রত্যাহার করেননি, তবে তিনি সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কথা উল্লেখ করে জানান যে বিষয়টি পড়ুয়াদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কী নিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক?

বিতর্কের সূত্রপাত ১৩ আগস্ট। সেদিন BCI NALSAR-এর ২০২৬ সালের স্নাতক ব্যাচের পড়ুয়াদের enrolment বা আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তির প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।

সমাবর্তনে CJI সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো এবং তাঁর অংশগ্রহণের প্রতিবাদে পড়ুয়াদের প্রচারাভিযান চালানোর বিষয়টি এই পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

তবে আইনি মহলে সমালোচনা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই BCI তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়।

এরপর NALSAR-এর Student Bar Council BCI-এর এই পুরো ঘটনা সামলানোর পদ্ধতির বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয়। তারা BCI চেয়ারম্যান মানন কুমার মিশ্রর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

শুধু NALSAR নয়, NLSIU-এর স্নাতক পড়ুয়া, বর্তমান পড়ুয়া এবং প্রাক্তনীরা যৌথ বিবৃতি দিয়ে একই ধরনের দাবি জানান। এমনকি NLSIU-এর পড়ুয়ারা নিজেদের সমাবর্তনে BCI চেয়ারম্যান এবং CJI সূর্য কান্তের উপস্থিতি নিয়েও আপত্তি জানায়।

এই পরিস্থিতির পরই মানন কুমার মিশ্র ক্ষমাপ্রার্থনা করেন।

‘কোনও পড়ুয়া আঘাত পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত’

নিজের চিঠিতে BCI চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত তাঁর কোনও বক্তব্য বা চিঠির কারণে যদি আইন পড়ুয়াদের অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, তাহলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

তিনি বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে ক্ষমা চাইতে কোনও দ্বিধা থাকা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুতাপ প্রকাশ করা কোনও মর্যাদা বা অহংকারের বিষয় নয়। বরং এটি স্বীকার করা যে পড়ুয়াদের অনুভূতি এবং উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ।

মিশ্রর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—আইন শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন এবং তাঁদের উদ্বেগকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

NLUs-এর পড়ুয়াদের প্রশংসা

BCI চেয়ারম্যান দেশের National Law Universities বা NLUs-এর পড়ুয়াদেরও প্রশংসা করেছেন

তিনি তাঁদের দেশের সবচেয়ে সচেতন, তথ্যসমৃদ্ধ এবং বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন তরুণ নাগরিকদের অন্যতম বলে উল্লেখ করেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, NLUs-এর পড়ুয়াদের আচরণ এবং সিদ্ধান্ত গোটা আইনশিক্ষা ব্যবস্থায় নজরে পড়ে। এমনকি অন্যান্য Centres of Legal Education বা CLEs-এর পড়ুয়ারাও একই ধরনের বিষয় কীভাবে দেখবেন, তার উপর তাঁদের অবস্থানের প্রভাব পড়তে পারে।

মিশ্র বলেন, আজ যাঁরা এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়াশোনা করছেন, আগামী দিনে তাঁদের কেউ অ্যাডভোকেট, সিনিয়র অ্যাডভোকেট, শিক্ষক, গবেষক এবং বিচারক হবেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ভবিষ্যতে দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ পদেও যেতে পারেন।

তাই কোনও একটি ঘটনা বা বিতর্কের বাইরে তাঁদের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সাংবিধানিক গণতন্ত্রের অংশ

BCI চেয়ারম্যান আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং মতবিরোধ সাংবিধানিক গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ

তবে তাঁর বক্তব্য, পরবর্তীতে নতুন তথ্য বা ব্যাখ্যা সামনে এলে প্রতিটি বিষয়কে আবারও নিরপেক্ষভাবে এবং খোলা মনে বিবেচনা করা উচিত।

অর্থাৎ, কোনও একটি পর্যায়ের তথ্য বা অবস্থানের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর পরিবর্তে নতুন তথ্য সামনে এলে তা পুনরায় মূল্যায়নের পক্ষেই মত দিয়েছেন তিনি।

সমাবর্তনে যাওয়া বা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত পড়ুয়াদের

সমাবর্তন অনুষ্ঠান নিয়ে মিশ্র বলেন, একটি সমাবর্তন বিশেষ ধরনের অনুষ্ঠান এবং এমন সুযোগ সহজে পুনরায় তৈরি করা যায় না।

তবে শেষ পর্যন্ত সমাবর্তনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত পড়ুয়াদের নিজেদের বলেই তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, কোনও পড়ুয়াকে সমাবর্তনে উপস্থিত হতে বাধ্য করা উচিত নয়। আবার কোনও পড়ুয়াকে অনুপস্থিত থাকতেও বাধ্য করা উচিত নয়।

তাঁর আবেদন, পুরো বিষয়টি বিবেচনা করে এবং নিজেদের বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী প্রত্যেক পড়ুয়া যেন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেন।

রাজনৈতিক রং না দেওয়ার আবেদন

BCI চেয়ারম্যান আরও বলেন, বাইরের কোনও প্রভাবের কারণে এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক বা অপ্রাসঙ্গিক রং দেওয়া উচিত নয়।

তাঁর মতে, বিতর্কটির সমাধান হওয়া উচিত ন্যায্যতা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মনোভাবের ভিত্তিতে

স্বাধীনতা দিবসে দেওয়া এই ক্ষমাপ্রার্থনার মাধ্যমে BCI চেয়ারম্যান মূলত আইন পড়ুয়াদের মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন।

একইসঙ্গে তিনি বর্তমান বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে না নিয়ে নতুন তথ্য ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে বিষয়টি খোলা মনে পুনর্বিবেচনা এবং আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button