রেলওয়ে গার্ডদের এমএসিপিএস সুবিধা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট
একই গ্রেড পেতেও পদোন্নতি গণ্য হবে, অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা নয় বলে রায়

রেলওয়ে গার্ডদের মডিফায়েড অ্যাসিউরড ক্যারিয়ার প্রগ্রেশন স্কিম (MACPS)-এর সুবিধা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও রেলওয়ে গার্ড যদি পদোন্নতির মাধ্যমে মেল/এক্সপ্রেস গার্ড পদ পর্যন্ত পৌঁছে যান, তাহলে তিনি এমএসিপিএস-এর অধীনে অতিরিক্ত আর্থিক উন্নীতকরণের দাবি করতে পারবেন না। একই গ্রেড পে থাকলেও পদোন্নতিগুলিকে এমএসিপিএস সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গণনা করতে হবে।
বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বেঞ্চ ২৩ জুলাই ২০২৬ এই রায় দেয়। আদালত কেন্দ্র সরকারের করা আপিল মঞ্জুর করে রাজস্থান হাইকোর্টের সেই রায় বাতিল করে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে গার্ড হরবংশ লাল বর্মাকে উচ্চতর গ্রেড পে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
কী নিয়ে বিরোধ?
মামলার আবেদনকারী হরবংশ লাল বর্মা ভারতীয় রেলের একজন অবসরপ্রাপ্ত মেল/এক্সপ্রেস গার্ড ছিলেন। তিনি দাবি করেন, এমএসিপিএস-এর অধীনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় আর্থিক উন্নীতকরণ হিসেবে তাঁর ৪,৬০০ টাকা এবং ৪,৮০০ টাকা গ্রেড পে পাওয়ার কথা।
তাঁর যুক্তি ছিল, চাকরিজীবনে তিনি একাধিক পদোন্নতি পেলেও ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার পর গার্ড ক্যাডারের উচ্চতর সব পদেই একই ৪,২০০ টাকা গ্রেড পে নির্ধারিত হয়। ফলে পদোন্নতি পেলেও তাঁর আর্থিক অগ্রগতি কার্যত থেমে গিয়েছিল। সেই কারণে তিনি এমএসিপিএস-এর অতিরিক্ত সুবিধার দাবি জানান।
কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (CAT) তাঁর দাবি মেনে নেয়। পরে রাজস্থান হাইকোর্টও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর কেন্দ্র সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
সুপ্রিম কোর্ট কী বলল?
সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূল প্রশ্ন ছিল, একই গ্রেড পে-তে হওয়া পদোন্নতিগুলি কি এমএসিপিএস সুবিধা দেওয়ার সময় উপেক্ষা করা যাবে?
আদালত রেলওয়ে গার্ডদের পদোন্নতির কাঠামো, রেলওয়ে নিয়োগ বিধি, এমএসিপিএস-এর বিভিন্ন ধারা, রেলওয়ে বোর্ডের সার্কুলার এবং পূর্ববর্তী বিচারিক সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করে।
বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানায়, শুধু গ্রেড পে অপরিবর্তিত থাকলেই কোনও পদোন্নতি তার আইনি মর্যাদা হারায় না।
রায়ে আদালত বলেছে, “একজন কর্মচারীর গ্রেড পে অপরিবর্তিত থাকলেও পদোন্নতি পদোন্নতিই থাকে।”
আদালত আরও ব্যাখ্যা করে, গার্ড ক্যাডারে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নিয়মিত নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। পদোন্নতির সঙ্গে দায়িত্ব বাড়ে, পদোন্নতির ইনক্রিমেন্ট মেলে এবং রানিং ডিউটি অ্যালাউন্স-সহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও বৃদ্ধি পায়। তাই শুধুমাত্র একই গ্রেড পে থাকার কারণে এই পদোন্নতিগুলিকে আর্থিকভাবে গুরুত্বহীন বলা যায় না।
আর্থিক স্থবিরতা ছিল না
সুপ্রিম কোর্ট আবেদনকারীর এই যুক্তিও গ্রহণ করেনি যে তিনি আর্থিকভাবে স্থবির অবস্থায় ছিলেন।
আদালত জানায়, প্রতিটি পদোন্নতির ফলে তাঁর বেতন, পদোন্নতির ইনক্রিমেন্ট, রানিং ডিউটি অ্যালাউন্স এবং অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গ্রেড পে একই থাকলেও তাঁর মোট আর্থিক সুবিধা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
আদালত আরও উল্লেখ করে, আবেদনকারী অবসরের অনেক আগেই মেল/এক্সপ্রেস গার্ড পদে উন্নীত হয়েছিলেন, যা ওই ক্যাডারের সর্বোচ্চ কার্যকরী পদ। তাই তাঁকে পদোন্নতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে—এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ এমএসিপিএস মূলত সেইসব কর্মচারীর জন্য, যাঁরা দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পেয়ে আর্থিকভাবে স্থবির হয়ে পড়েন।
রেলওয়ে বোর্ডের সার্কুলার বৈধ
সুপ্রিম কোর্ট RBE No. 76/2011 এবং RBE No. 142/2012 সার্কুলারকেও বৈধ বলে ঘোষণা করেছে। আদালত জানিয়েছে, কর্মীবিষয়ক ও প্রশিক্ষণ দপ্তরের (DoPT) সঙ্গে পরামর্শ করেই এই সার্কুলারগুলি জারি করা হয়েছিল এবং এগুলি এমএসিপিএস-এর সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।
আদালত স্পষ্ট করেছে, এমএসিপিএস-এর অধীনে আর্থিক উন্নীতকরণ কখনও পদোন্নতির শৃঙ্খলে নির্ধারিত সর্বোচ্চ গ্রেড পে অতিক্রম করতে পারে না।
আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র সরকারের আপিল মঞ্জুর করে রাজস্থান হাইকোর্ট এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ বাতিল করেছে। পাশাপাশি রেলওয়ে প্রশাসনের সেই আদেশ পুনর্বহাল করা হয়েছে, যেখানে হরবংশ লাল বর্মার এমএসিপিএস দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
তবে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরাহাও দিয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে ইতিমধ্যে এমএসিপিএস-এর অধীনে যে অর্থ প্রদান করা হয়েছে, তা ফেরত নেওয়া যাবে না। এছাড়া যেসব কর্মচারীর ক্ষেত্রে আদালতের পূর্ববর্তী আদেশ কার্যকর হয়ে চূড়ান্ত হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও এই রায়ের ভিত্তিতে অর্থ পুনরুদ্ধার বা সুবিধা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া যাবে না।
কেস টাইটেল: Union of India & Others v. Harbans Lal Verma


