ফেসবুক পোস্টে ‘বাঢ়িয়া কিয়া ভাই’ মন্তব্যের জেরে বরখাস্ত আরপিএফ কনস্টেবলকে পুনর্বহাল করল দিল্লি হাই কোর্ট

রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (আরপিএফ) এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনা সংক্রান্ত একটি ফেসবুক পোস্টে ‘বাঢ়িয়া কিয়া ভাই’ (‘খুব ভালো করেছ ভাই’) মন্তব্য করার অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া এক কনস্টেবলকে পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ওই কনস্টেবলই মন্তব্যটি করেছেন, তার চূড়ান্ত প্রমাণ কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি।
জাস্টিস সি হরি শঙ্কর এবং জাস্টিস ওম প্রকাশ শুক্লার ডিভিশন বেঞ্চ কনস্টেবল রবিন গৌতমের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণের দিন থেকে পুনরায় বহাল করার নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার সূত্রপাত হয় ২০১৮ সালে, যখন মেঘালয়ে এক নির্বাচনী ডিউটি চলাকালীন আরপিএফ-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট মুকেশ সি ত্যাগী অপর এক কনস্টেবল দ্বারা নিহত হন। এই ঘটনা সংক্রান্ত একটি ফেসবুক পোস্টে রবিন গৌতমের অ্যাকাউন্ট থেকে ওই আপত্তিকর মন্তব্যটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এই মন্তব্যের ভিত্তিতে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ রবিন গৌতমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রথম দিকে শাস্তি হিসেবে তাঁর ‘পরবর্তী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত’ করা হলেও, পরে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সেই শাস্তি হালকা মনে করেন এবং ২০২১ সালে রবিনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন।
রবিন গৌতম এরপর দিল্লি হাইকোর্টে তাঁর বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করেন। হাইকোর্ট সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পর জানায়, শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ সহ উচ্চতর আধিকারিকেরা এই মামলাটি মীমাংসার ক্ষেত্রে ‘বিবেচনার সম্পূর্ণ অভাব’ দেখিয়েছেন। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, প্রাথমিক তদন্তকারী অফিসার (IO) এবং শৃঙ্খলামূলক কর্তৃপক্ষ (DA)—উভয়েই এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি যে ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি রবিন গৌতমের। যখন মন্তব্যটি যে তার, তার কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই, তখন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত হয়নি।
আদালত আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, যদি এই মন্তব্যটি রবিন গৌতমই করেছেন বলে প্রমাণিত হতো, তবে তাঁকে চরম শাস্তি দেওয়া হতো। কারণ, ফোর্সের এক অফিসারকে হত্যার ঘটনাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও নয়। কিন্তু প্রমাণের অভাবে তাঁর বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হয় এবং তাঁকে চাকরিতে বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত এও জানায়, তাঁকে এমনভাবে ক্ষতিপূরণ এবং বেতন নির্ধারণ করে দিতে হবে, যেন তাঁকে চাকরি থেকে কখনোই সরানো হয়নি।



