‘গ্যাংস্টার’ পরিচয় দিয়ে শাস্তি নয়, উত্তরপ্রদেশের আইনকে ‘Stillborn’ বলল সুপ্রিম কোর্ট
নির্দিষ্ট অপরাধ সংজ্ঞায়িত না করেই গ্যাং চার্টের ভিত্তিতে মামলা সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী

উত্তরপ্রদেশের U.P. Gangsters and Anti-Social Activities (Prevention) Act, 1986 নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই আইনে কোনও নির্দিষ্ট অপরাধ তৈরি না করেই একজন ব্যক্তিকে ‘গ্যাংস্টার’ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এই কারণে আদালত আইনটিকে “stillborn” বা জন্মের সময়ই কার্যত মৃত বলে মন্তব্য করেছে।
বিচারপতি জে. বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ গ্যাংস্টার আইনে দায়ের হওয়া মামলা ও চার্জশিট খারিজ করে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে। আদালতের বক্তব্য, শুধুমাত্র প্রশাসনের তৈরি ‘Gang Chart’-এর ভিত্তিতে কাউকে গ্যাংস্টার হিসেবে চিহ্নিত করে ফৌজদারি শাস্তির আওতায় আনা যায় না।
মামলায় আবেদনকারী দুই আইনজীবী হলেন শিব প্রতাপ সিং ওরফে চিনু এবং হিমাংশু শ্রীবাস্তব। দু’টি পৃথক ফৌজদারি মামলায় তাঁরা উত্তরপ্রদেশ গ্যাংস্টার আইনের অধীনে চলা কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।
প্রথম মামলার সূত্রপাত ফতেহগড়, ফরুখাবাদে বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বিরোধ থেকে। ওই ঘটনায় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি একটি FIR দায়ের হয়। সেই একটি ঘটনার ভিত্তিতেই পুলিশ একটি ‘Gang Chart’ তৈরি করে এবং U.P. Gangsters Act-এর ২/৩ ধারায় মামলা দায়ের করে।
দ্বিতীয় মামলাতেও একই ধরনের প্রশ্ন ওঠে। সেখানে একটি মাত্র FIR-এর ভিত্তিতে একজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ গ্যাংস্টার আইনে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। ওই FIR-এ ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং SC/ST আইনের ধারায় অভিযোগ ছিল।
দু’টি ক্ষেত্রেই এলাহাবাদ হাইকোর্ট CrPC-এর ৪৮২ ধারায় মামলা খারিজ করতে অস্বীকার করেছিল। এরপর আবেদনকারীরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
শীর্ষ আদালত U.P. Gangsters Act-এর কাঠামো বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, আইনের ২ নম্বর ধারায় ‘gang’ এবং ‘gangster’-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং ৩ নম্বর ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনটি নিজে কোনও নির্দিষ্ট কাজ বা কাজ না করাকে স্বতন্ত্র ‘অপরাধ’ হিসেবে ঘোষণা করেনি।
আদালতের মতে, ফৌজদারি আইনের একটি মৌলিক নীতি হল—কোনও কাজকে আগে আইন দ্বারা অপরাধ হিসেবে নির্ধারণ না করে সেই কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া যায় না। অর্থাৎ “nulla poena sine lege”—আইন ছাড়া শাস্তি নয়—এই নীতিই এখানে প্রযোজ্য।
সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, কাউকে শুধুমাত্র ‘গ্যাংস্টার’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁর ওই ‘status’-এর জন্য শাস্তি দেওয়া যায় না। কোনও নির্দিষ্ট অপরাধমূলক কাজের ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। পুলিশের বা প্রশাসনের তৈরি Gang Chart কোনও নতুন অপরাধ সৃষ্টি করতে পারে না।
আদালত স্পষ্ট করেছে, নির্বাহী কর্তৃপক্ষের তৈরি কোনও নথি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায় তৈরি করা সাংবিধানিক ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই ধরনের ব্যবস্থা সংবিধানের ২০(১) অনুচ্ছেদের সুরক্ষার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, U.P. Gangsters Act-এর ২৩ নম্বর ধারার অধীনে তৈরি বিধিগুলিকেও এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে পুলিশ বা প্রশাসন কার্যত নতুন ফৌজদারি দায় তৈরি করতে পারে। আইন তৈরি করার ক্ষমতা আইনসভার; প্রশাসনিক বিধি সেই ক্ষমতার বিকল্প হতে পারে না।
এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট মহারাষ্ট্রের MCOCA এবং গুজরাটের GCTOCA-র সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের আইনের পার্থক্যও তুলে ধরে। আদালত জানিয়েছে, ওই আইনগুলিতে সংগঠিত অপরাধের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা এবং অপরাধ সৃষ্টির বিধান রয়েছে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের আইনে সেই ধরনের স্বতন্ত্র অপরাধ তৈরি করা হয়নি।
তবে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করেছে। এই রায়ের অর্থ এই নয় যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূল বা পূর্ববর্তী অপরাধের মামলা বাতিল হয়ে যাবে। যে FIR বা মামলায় IPC, SC/ST Act কিংবা অন্য কোনও দণ্ডবিধির অধীনে নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি স্বাভাবিক ফৌজদারি প্রক্রিয়া অনুযায়ী চলতে পারবে।
অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশ গ্যাংস্টার আইনের অধীনে চলা কার্যক্রম বাতিল করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অন্য আইনে দায়ের হওয়া মূল অপরাধের মামলা এই রায়ের ফলে খারিজ হবে না।
আদালত আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, বর্তমান কাঠামোয় প্রশাসন কোনও ব্যক্তিকে ‘গ্যাংস্টার’ হিসেবে চিহ্নিত করার পর দীর্ঘ সময় বিচার-পূর্ব হেফাজতে রাখার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাহী কর্তৃপক্ষের দেওয়া একটি status-এর উপর ভিত্তি করে Special Court-এ বিচার কার্যত আগেই নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ফলে সুপ্রিম কোর্ট দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ গ্যাংস্টার আইনে চলা কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট চার্জশিট খারিজ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে আইনটির বর্তমান কাঠামো সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও ফৌজদারি আইনগত প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
কেস টাইটেল
Shiv Pratap Singh Alias Chinu v. State of U.P. & Ors.
Neutral Citation: 2026 INSC 894


