স্কুলে যেতে ৫ কিলোমিটার হাঁটতে হচ্ছে পড়ুয়াদের, সংবাদ দেখে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা এলাহাবাদ হাইকোর্টের
রাস্তার অভাবে পড়ুয়াদের জেলা শাসকের দফতরে যেতে হওয়ায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল আদালত

উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলার চান্দুপুর গ্রামে স্কুলে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় এবার স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। স্কুল পড়ুয়াদের দুর্ভোগ নিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নজরে আসার পর আদালত নিজেই বিষয়টি বিচারাধীন করে।
১৪ আগস্ট ২০২৬ প্রধান বিচারপতি অরুণ ভানসালি এবং বিচারপতি ক্ষিতিজ শৈলেন্দ্র-র ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকেই নজরে আসে বিষয়টি
আদালত ১২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত দৈনিক জাগরণ-এর একটি প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চান্দুপুর গ্রামের একাধিক স্কুলপড়ুয়া তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে হামিরপুরের জেলা শাসকের দফতরে গিয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত রাস্তার অভাবের কথা জানান।
রাস্তার দাবিতে প্রতিবাদ করতে গিয়ে পড়ুয়াদের প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়েছিল বলে সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আদালত এই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করেছে।
অর্থাৎ যে রাস্তা দিয়ে পড়ুয়াদের প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই রাস্তার সমস্যার সমাধানের দাবিতেই শেষ পর্যন্ত তাঁদের জেলা প্রশাসনের কাছে যেতে হয়েছে।
দেড় কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খারাপ
সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, জেলা কালেক্টর জানিয়েছেন যে রাস্তা তৈরির দায়িত্ব Public Works Department বা PWD-এর।
অন্যদিকে PWD-এর Executive Engineer-ও স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, প্রায় ১.৫ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।
রাস্তা নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ কেন শুরু হয়নি, তারও একটি কারণ উঠে এসেছে। Forest Department-এর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় No Objection Certificate বা NOC না পাওয়ায় কাজটি আটকে রয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে রাস্তা তৈরির জন্য প্রায় ১.৮১ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। বাজেট পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পড়ুয়াদের কেন জেলা শাসকের কাছে যেতে হবে?
এই পরিস্থিতি নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, একটি গ্রামের স্কুলপড়ুয়াদের মতো সাধারণ মানুষকে স্কুলে যাওয়ার মতো একটি মৌলিক পরিকাঠামোর জন্য জেলা কালেক্টরের কাছে যেতে হবে—এটি গ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি নয়।
আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, যেখানে একটি উপযুক্ত রাস্তা তৈরি বা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের, সেখানে স্কুলপড়ুয়াদের এই সমস্যার সমাধানের জন্য প্রশাসনের কাছে গিয়ে আবেদন করতে হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানায়, এই ধরনের পরিস্থিতি “cannot be countenanced”, অর্থাৎ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এই পরিস্থিতি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের মাধ্যমে আদালতের নজরে আসার পরই আদালত suo motu cognizance নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কী এই suo motu cognizance?
Suo motu cognizance বলতে বোঝায়, কোনও ব্যক্তি সরাসরি মামলা দায়ের না করলেও আদালত নিজে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নজরে নিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করা।
এই মামলাতেও কোনও নির্দিষ্ট আবেদনকারীর মামলার ভিত্তিতে নয়, বরং সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে আদালত নিজেই বিষয়টি গ্রহণ করেছে।
জনস্বার্থ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত
আদালত তার দফতরকে বিষয়টি Civil Writ (PIL) হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার শিরোনাম রাখা হয়েছে:
“In Re: Road to School, Hamirpur Vs. State of U.P. and others.”
এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নোটিস জারি করা হয়েছে।
নোটিস পেয়েছেন হামিরপুরের District Magistrate, Public Works Department-এর সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা, PWD Hamirpur-এর Executive Engineer এবং Environment, Forest and Climate Change Department-এর Principal Secretary-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
রাজ্যের আইনজীবীদের আদালতের সামনে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে আদালতকে জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত স্পষ্ট করেছে, বিষয়টি আর বিলম্ব না করে সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে রাজ্যকে জবাব দিতে হবে।
মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ২৪ আগস্ট ২০২৬ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের পদক্ষেপ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনল—স্কুলে যাওয়ার মতো একটি মৌলিক প্রয়োজনের জন্য যদি শিশুদের কয়েক কিলোমিটার হাঁটতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে হয়, তাহলে সেই পরিকাঠামোগত দায় কার?
এখন নজর থাকবে ২৪ আগস্টের শুনানিতে উত্তরপ্রদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি আদালতের সামনে কী রিপোর্ট পেশ করে এবং চান্দুপুরের পড়ুয়াদের রাস্তার সমস্যার সমাধানে কী বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।



