
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রাজস্থানের ফলৌদি (Phalodi) জেলার এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (suo motu cognisance) পদক্ষেপ নিয়েছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত পনেরো জন মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ভারতমালা এক্সপ্রেসওয়ের উপর। যেখানে দ্রুত গতিতে আসা একটি টেম্পো ট্র্যাভেলার দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেলর ট্রাকের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা মারে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
- দুর্ঘটনার স্থান: রাজস্থানের ফলৌদি জেলার মাতোদা গ্রামের কাছে ভারতমালা এক্সপ্রেসওয়ে।
- নিহত ও আহত: প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। বেশ কয়েকজন গুরুতর আহতও হয়েছেন।
- দুর্ঘটনার কারণ: টেম্পো ট্র্যাভেলারটি তীর্থযাত্রীদের নিয়ে যোধপুরের সুরসাগর থেকে বিকানেরের কোলায়ত মন্দিরের দিকে যাচ্ছিল। অন্ধকারে টেম্পো ট্র্যাভেলারের চালক রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেলর ট্রাকটিকে দেখতে পাননি। উচ্চ গতিতে থাকার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সজোরে ধাক্কা মারে।
- উদ্ধারকার্য: সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে টেম্পো ট্র্যাভেলারটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এর ফলে বহু যাত্রী গাড়ির ভেতরে আটকে পড়েন। পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পথচারীরা মিলে আহতদের উদ্ধার এবং মৃতদেহগুলি বার করার জন্য অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন।
- চিকিৎসা ব্যবস্থা: মৃতদেহগুলি ওসিয়ানের সরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর যোধপুরের মাথুরা দাস মাথুর সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আহতদের মধ্যে একজন যোধপুর যাওয়ার পথে মারা যান বলেও জানা গেছে।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ ও উদ্দেশ্য
সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে দেশে সড়ক নিরাপত্তা এবং কেন্দ্র দ্বারা অর্থায়িত ‘ভারতমালা পরিয়োজনা’র অধীনে তৈরি এক্সপ্রেসওয়েগুলির নিয়মাবলী কার্যকর করা নিয়ে যে উদ্বেগ বাড়ছে, তার মাঝেই আদালতের এই হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিচারপতি জে.কে. মাহেশ্বরী এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ আগামী নভেম্বর মাসের ১০ তারিখে এই মামলার শুনানি করবে।
আদালত এই দুর্ঘটনার নিম্নলিখিত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে পারে:
- রাস্তার নকশা (Road Design)
- গাড়ির নিরাপত্তা (Vehicle Safety)
- এক্সপ্রেসওয়েগুলিতে গতি এবং আলোর নিয়মাবলী কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে কিনা
- দুর্ঘটনার সামগ্রিক পরিস্থিতি
সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যায় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নির্দেশিকা তৈরি করা।



