অনুকম্পামূলক নিয়োগে বিধবার পুনর্বিবাহ বাধা নয়: কেরল শিক্ষা বিধি অনুযায়ী রায় কেরল হাইকোর্টের

কেরল হাইকোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে যে, কেরল শিক্ষা বিধি (Kerala Education Rules – KER) অনুযায়ী অনুকম্পামূলক (compassionate) নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধবার পুনর্বিবাহ কোনো বাধা হতে পারে না। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে এইডেড (Aided) স্কুলের শিক্ষকদের নির্ভরশীলদের জন্য এই নিয়োগ একটি আইনগত অধিকার (Statutory Right), যা কোনো নির্বাহী আদেশ বা সরকারি নির্দেশ দ্বারা বাতিল করা যায় না।
জাস্টিস এন নাগরেসের বেঞ্চ মিনি আর.কে. (Mini R.K.) নামক এক ৫১ বছর বয়সী বিধবার আবেদন মঞ্জুর করেছে। তাঁর স্বামী, যিনি কাসারগড়ের একটি হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক ছিলেন, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে কর্মরত অবস্থায় মারা যান। মিনি আর.কে. ওই বছরই ডিসেম্বরে অনুকম্পামূলক চাকরির জন্য আবেদন করেন।
যদিও প্রথমে কোনো পদ খালি না থাকায় তাঁকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে একটি অফিস অ্যাটেনড্যান্টের পদ খালি হলে তিনি আবার আবেদন করেন। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর পুনর্বিবাহের কারণ দেখিয়ে এবং সম্প্রতি জারি হওয়া একটি সরকারি আদেশ (GO(P) No.12/2023/P&ARD) উল্লেখ করে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। ওই সরকারি আদেশে পুনর্বিবাহকারী বিধবা বা বিপত্নীকদের অনুকম্পামূলক নিয়োগের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছিল।
হাইকোর্ট এই যুক্তিতে একমত হয়নি। আদালত জানায় যে মিনি আর.কে.-এর স্বামীর চাকরি যেহেতু এইডেড স্কুলে ছিল, তাই তাঁর অধিকার KER-এর রুল ৫১বি দ্বারা সুরক্ষিত, যা ম্যানেজারকে মৃত শিক্ষকের নির্ভরশীলকে চাকরি দিতে বাধ্য করে। বিচারপতি নাগরেস মন্তব্য করেন, স্বামীর মৃত্যুর এক বছর পর সামাজিক ও ব্যক্তিগত কারণে পুনর্বিবাহ করলে আইন দ্বারা প্রাপ্ত অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। আদালত এই নিয়োগ বাতিল করার সিদ্ধান্তকে ‘ন্যায়ের চরম লঙ্ঘন’ বা “travesty of justice” বলে অভিহিত করে।
এর ভিত্তিতে হাইকোর্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের খারিজ আদেশ বাতিল করে এবং মিনি আর.কে.-কে দ্রুত শূন্যপদে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।



