
নয়াদিল্লি: ব্যক্তিগত শত্রুতা বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য ধর্ষণ, অপহরণ কিংবা SC/ST আইনের অপব্যবহার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। ঝুটো মামলা বা ‘ফেক কেস’ দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার ক্রমবর্ধমান প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার কেন্দ্র ও সবকটি রাজ্য সরকারকে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
জনস্বার্থ মামলার মূল বিষয়বস্তু
অ্যাডভোকেট অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে এই জনস্বার্থ মামলাটি (PIL) দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে সম্পত্তি বিবাদ বা সামাজিক রেষারেষির মতো দেওয়ানি বিষয়গুলোকে ফৌজদারি অপরাধের রূপ দিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানো হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্ষণ (Rape), ছিনতাই এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST Act) বিরোধী আইনের অপব্যবহার করে ভয় দেখানো বা অর্থ আদায়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর অজান্তেই জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে FIR দায়ের করার মতো ঘটনাও ঘটছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাবনা
বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম পঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, পুলিশ স্টেশন, আদালত চত্বর এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বিশেষ ‘ডিসপ্লে বোর্ড’ লাগানো হোক। সেখানে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের বা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার আইনি পরিণতি ও কঠোর শাস্তির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। এছাড়াও, অভিযোগ জানানোর সময় অভিযোগকারীর হলফনামা বা শপথনামা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার কমানো যায়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আইনি প্রক্রিয়ার এই ধরনের অপব্যবহার নিয়ে বিচার বিভাগ চুপ থাকতে পারে না। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের মর্যাদা রক্ষায় এই সমস্যা সমাধান হওয়া জরুরি। আদালত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলোকে তাদের অবস্থান জানানোর জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছে। এক মাস পর মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হবে।



