হাইকোর্ট

তেরো বছরের পুরোনো গোয়া যৌন নির্যাতন মামলায় দোষী সাব্যস্ত তরুণ তেজপাল

বেকসুর খালাসের রায় বাতিল বম্বে হাইকোর্টের, পরে হবে সাজা নির্ধারণের শুনানি

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আলোচিত গোয়ার যৌন নির্যাতন মামলায় বড় মোড় আনল বম্বে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আদালত প্রাক্তন তেহেলকা সম্পাদক তরুণ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০২১ সালে সেশনস কোর্টের দেওয়া বেকসুর খালাসের রায় বাতিল করেছে। গোয়া সরকারের দায়ের করা আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্ট জানিয়েছে, এখন মামলাটি সাজা নির্ধারণের জন্য পৃথকভাবে শুনানি হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট

এই মামলার সূত্রপাত ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে। অভিযোগ, গোয়ার একটি হোটেলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের সময় লিফটের ভিতরে তরুণ তেজপাল তাঁর এক জুনিয়র সহকর্মীকে যৌন নির্যাতন করেন।

ঘটনার পর অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে গোয়া পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এফআইআর দায়ের করে। একই বছরের নভেম্বরেই তরুণ তেজপালকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে তিনি জামিন পান। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১৭ সালে মামলার বিচার শুরু হয়।

২০২১ সালের মে মাসে গোয়ার সেশনস কোর্ট তেজপালকে বেকসুর খালাস দেয়। আদালত তখন পর্যবেক্ষণ করেছিল, অভিযোগপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি এবং মামলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি নীলা গোখলে এবং বিচারপতি অমিত জামসানদেকরের ডিভিশন বেঞ্চ গোয়া সরকারের আপিল গ্রহণ করে সেশনস কোর্টের রায় বাতিল করে।

রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বেঞ্চ জানায়,

“আমরা সেশনস কোর্টের রায় ও আদেশ বাতিল করছি এবং তরুণ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করছি। তাঁকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(২)(এফ), ৩৭৬(২)(কে), ৩৫৪এ এবং ৩৫৪বি ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।”

আপিল শুনানিতে গোয়া সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, সেশনস কোর্ট অভিযোগকারিণীর ঘটনার পরবর্তী আচরণের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছিল। অথচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থাকা প্রমাণগুলির যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।

রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে তেজপালের পাঠানো একটি ক্ষমাপ্রার্থনার ই-মেলসহ অন্যান্য নথি ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়। সরকারের দাবি ছিল, এসব প্রমাণ বিবেচনা করলে সেশনস কোর্টের খালাসের রায় টেকসই নয়।

অন্যদিকে, তরুণ তেজপালের পক্ষের আইনজীবীরা সেশনস কোর্টের রায়কে সমর্থন করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ইলেকট্রনিক প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ, টেক্সট মেসেজ এবং সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতেই সেশনস কোর্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাঁদের দাবি, অভিযোগপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আদালতের সিদ্ধান্ত

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বম্বে হাইকোর্ট সেশনস কোর্টের বেকসুর খালাসের রায় বাতিল করে তরুণ তেজপালকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৬(২)(এফ), ৩৭৬(২)(কে), ৩৫৪এ এবং ৩৫৪বি-এর অধীনে দোষী সাব্যস্ত করে।

তবে এই পর্যায়ে আদালত সাজা ঘোষণা করেনি। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, সাজা কত হবে তা নির্ধারণের জন্য মামলাটি পৃথকভাবে তালিকাভুক্ত করা হবে এবং সেই শুনানির পরই চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করা হবে।

এই রায়ের মাধ্যমে প্রায় তেরো বছর ধরে চলা বহুল আলোচিত মামলায় নতুন আইনি অধ্যায়ের সূচনা হল।

কেস টাইটেল: State of Goa v. Tarunjit Tejpal & Another
কেস নম্বর: CRIA/16/2022

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button