হাইকোর্ট

থিরুপরাঙ্কুন্দ্রাম হিল উৎসব: পশুসংহার ও আমিষ খাবারে নিষেধাজ্ঞা মাদ্রাজ হাইকোর্টের

মদুরাইয়ের ঐতিহাসিক ও পবিত্র থিরুপরাঙ্কুন্দ্রাম হিল-এ উৎসব পালন নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করেছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পাহাড়ের ওপর কোনো ধরনের পশুসংহার (Animal Sacrifice) করা যাবে না। একই সঙ্গে সেখানে গরুর মাংস বা অন্য কোনো ধরনের আমিষ খাবার রান্না করা, পরিবেশন করা এমনকি বহন করার ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

কোন উৎসবের অনুমতি দিল আদালত? মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি এস. শ্রীমতীর বেঞ্চ সিকান্দার সুলতান বাদূশা দরগায় আয়োজিত শুধুমাত্র ‘সন্থানাকুডু উরুস’ (Santhanakoodu Urus) অনুষ্ঠানটি পালনের অনুমতি দিয়েছে। তবে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ‘কান্ধুরি মহোৎসব’-এর মতো অন্য কোনো অনুষ্ঠান সেখানে করা যাবে না। পাহাড়ের তলদেশ থেকে শুরু করে চূড়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

আদালতের কড়া নির্দেশাবলি: ১. সীমিত অংশগ্রহণকারী: উৎসবে ভিড় এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। ২. আমিষ ও পশুসংহার নিষিদ্ধ: পাহাড়ের পবিত্রতা ও স্থানীয় ভাবাবেগ রক্ষায় কোনো ধরনের পশু জবাই বা আমিষ খাবারের অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৩. পুলিশি পাহারা: পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আদালতের প্রতিটি শর্ত অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয় এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

কেন এই আইনি লড়াই? এম. মানিক্কামুথি নামে এক ব্যক্তি আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, পাহাড়ের ওপর কান্ধুরি উৎসবের নামে পশুসংহার ও আমিষ রান্নার আয়োজন করা হলে তা স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘকাল ধরে এই পাহাড়টি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গোষ্ঠী সেখানে পশুসংহারের প্রচার শুরু করলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

ভবিষ্যৎ শুনানি: আদালত এই নির্দেশটি সাময়িকভাবে জারি করেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আগামী ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে তাদের বক্তব্য বা ‘কাউন্টার-অ্যাফিডেভিট’ জমা দিতে বলা হয়েছে। ওই দিন মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।

সারসংক্ষেপ: থিরুপরাঙ্কুন্দ্রাম হিল-এর শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য এবং সাম্প্রদায়িক শান্তি বজায় রাখতেই হাইকোর্ট এই ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫০ জন মানুষের উপস্থিতিতে শুধুমাত্র উরুস উৎসব পালনের মাধ্যমে ধর্মীয় আচার রক্ষার সুযোগ দিলেও, জনসমক্ষে পশুসংহার বা আমিষ ভোজের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোকে আদালত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button