
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই শুনানিতে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারের যুক্তি শুনে কিছু অত্যন্ত জরুরি নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
বিতর্কের মূল কারণ
ঘটনাটি শুরু হয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) একটি প্রশিক্ষণ মডিউলকে কেন্দ্র করে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিবল আদালতে যুক্তি দেন যে, নির্বাচন কমিশন বিচার বিভাগীয় অফিসারদের (Judicial Officers) যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, তা সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অফিসারদের শেখানো হচ্ছে কোন নথি গ্রহণ করতে হবে আর কোনটি বাতিল করতে হবে, যা আদতে আদালতের আদেশের বাইরে গিয়ে কাজ করা।
আদালতের কড়া মন্তব্য
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান যে, বিচার বিভাগীয় অফিসারদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কোনো নির্দেশ বা প্রশিক্ষণ মডিউল আদালতের আদেশকে ছাপিয়ে যেতে পারে না।” আদালত জোর দিয়ে জানায় যে, অফিসাররা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবেন এবং তাঁদের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী হবে, বাইরের কোনো নির্দেশে নয়।
ভোটার তালিকা ও নথি যাচাই
আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, সংশোধিত ভোটার তালিকা ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের জন্য জমা পড়া নথি যেমন—আধার কার্ড, মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট ইত্যাদি যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার করতে হবে। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারক পাওয়া কঠিন হচ্ছিল, তাই দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ওডিশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে বিচার বিভাগীয় অফিসার নিয়োগের অনুমতিও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আদালতের মূল বার্তা
সুপ্রিম কোর্টের এই শুনানির নির্যাস হলো তিনটি প্রধান বিষয়: ১. বিচার বিভাগীয় অফিসারদের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। ২. আদালতের আদেশের ঊর্ধ্বে নির্বাচন কমিশনের কোনো নির্দেশিকা কার্যকর হবে না। ৩. ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজে কোনোভাবেই বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।
পরিশেষে, আদালত চায় একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা সময়মতো তৈরি হোক, যেখানে নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে না।



