খবরাখবর

টবে হোক বা জমিতে: গাঁজা গাছ চাষ করলেই NDPS আইনে অপরাধ; স্পষ্ট করল কেরালা হাইকোর্ট

সম্প্রতি কেরালা হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, গাঁজা গাছ (ক্যানাবিস প্ল্যান্ট) চাষ করা নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট (NDPS Act)-এর অধীনে একটি অপরাধ। আদালত আরও জানিয়েছে, গাঁজা গাছ টবে লাগানো হোক বা মাটিতে, আইন দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না।

বিচারপতি সি. এস. ডায়াস পর্যবেক্ষণ করেছেন, NDPS অ্যাক্টের ধারা ৮(বি) এবং ২০(এ)-তে ব্যবহৃত ‘গাঁজা গাছ চাষ করা’ (cultivate any cannabis plant) অভিব্যক্তিটির মধ্যে গাঁজা গাছকে সচেতনভাবে রোপণ, লালন-পালন, বা পরিচর্যার যেকোনো কাজ অন্তর্ভুক্ত, তা সেটি মাটিতে হোক বা টবে। আইনের উদ্দেশ্য হল, আইন লঙ্ঘন করে গাঁজা গাছ লাগানোর এবং পরিচর্যার সজ্ঞান কাজটিকে শাস্তি দেওয়া।

মামলার পটভূমি: আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছিল এক অভিযুক্তের পক্ষ থেকে, যার বিরুদ্ধে NDPS অ্যাক্টের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, আবগারি কর্মকর্তারা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এক ভাড়া বাড়ির ছাদে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তের উপস্থিতিতে পাঁচটি টবে লাগানো গাঁজা গাছ জব্দ করেন। একইসঙ্গে, তাঁর শোবার ঘর থেকে গাঁজার বীজ এবং শুকনো ডালও উদ্ধার করা হয়।

আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, জব্দ করা গাছগুলিতে ফুল বা ফল আসেনি, তাই সেটিকে আইনের সংজ্ঞায় ‘গাঁজা’ বলা যায় না। তিনি আরও দাবি করেন যে, তিনি ওই বাড়িতে থাকতেন না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: হাইকোর্ট NDPS আইনের বিভিন্ন ধারা (ধারা ২, ৮ এবং ২০) বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, আইনটি কোথাও নির্দিষ্ট করে না যে, গাঁজা গাছকে নিষিদ্ধ পণ্য হিসাবে বিবেচনা করার জন্য তাতে ফুল বা ফলের শীর্ষ থাকতে হবে।

আদালত স্পষ্ট করে:

  • আইন অনুযায়ী, ‘গাঁজা গাছ’ (cannabis plant) এবং ‘গাঁজা’ (ganja) দুটি আলাদা জিনিস। ‘গাঁজা’ বলতে বোঝায় গাঁজা গাছের ফুল বা ফলের শীর্ষ অংশকে।
  • আইন অনুসারে, গাঁজা গাছের ফুল বা ফল না থাকলেও সেটিকে ‘গাঁজা গাছ’ হিসেবেই গণ্য করা হবে।
  • আইনের ধারা ৮(বি) স্পষ্টভাবে গাঁজা গাছ চাষ নিষিদ্ধ করে এবং ধারা ২০ এই চাষের জন্য আলাদা শাস্তির বিধান রাখে।

আদালত আরও সিদ্ধান্ত নেয় যে, ‘চাষ করা’ (cultivate) শব্দটির মধ্যে ‘রোপণ করা’ (planting) অন্তর্ভুক্ত। তাই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি প্রাথমিক প্রমাণ সাপেক্ষে অপরাধের ঘটনাকে প্রকাশ করে। যদিও অভিযুক্তের অন্য দাবিগুলি (যেমন তিনি ওই বাড়িতে থাকতেন না) বিচার প্রক্রিয়ার সময় বিচার্য হবে, কিন্তু হাইকোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button