হাইকোর্ট

ধর্ষণ মামলায় ত্রিপুরা হাইকোর্টের বড় রায়: কেবল নির্যাতিতার সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই সাজা বহাল

ত্রিপুরা হাইকোর্টের কড়া বার্তা: বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্যই সাজা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট

ত্রিপুরা হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে যে, ধর্ষণ মামলায় নির্যাতিতার বয়ান যদি বিশ্বাসযোগ্য এবং অটল হয়, তবে অন্য কোনো পারিপার্শ্বিক বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অনুপস্থিতিতেও কেবল সেই সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে সাজা দেওয়া সম্ভব। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, এই ধরনের অপরাধে নির্যাতিতার মান মর্যাদা ও সত্যবাদিতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারপতির নাম

এই রায়টি দিয়েছেন ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি টি. অমরনাথ গৌড় (Justice T. Amarnath Goud)। তিনি নিম্ন আদালতের দেওয়া সাত বছরের কারাদণ্ডের সাজাকে চ্যালেঞ্জ করে অভিযুক্তের দায়ের করা আপিল মামলাটি খারিজ করে এই পর্যবেক্ষণ দেন। মামলার নাম ছিল ‘রোহিত সরকার বনাম ত্রিপুরা সরকার’।

ঘটনার বিবরণ

ঘটনাটি ঘটেছিল উত্তর ত্রিপুরা জেলায়। অভিযুক্ত রোহিত সরকার জনৈক মহিলার ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু পরে সে তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে। নির্যাতিতা মামলা দায়ের করলে নিম্ন আদালত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেয়। অভিযুক্ত এই সাজাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়।

অভিযুক্তের যুক্তি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

আদালতে অভিযুক্তের আইনজীবী দাবি করেন যে, নির্যাতিতার মেডিকেল রিপোর্টে কোনো ধস্তাধস্তির চিহ্ন নেই এবং কোনো স্বাধীন সাক্ষী এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেনি। কিন্তু বিচারপতি অমরনাথ গৌড় এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়: ১. ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো মেয়ে সাধারণত মিথ্যা অভিযোগ এনে নিজের সম্মান নষ্ট করে না। ২. নির্যাতিতার বয়ান যদি ধারাবাহিক এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়, তবে আইনের চোখে আলাদা করে অন্য কোনো প্রমাণের (Corroboration) প্রয়োজন নেই। ৩. মেডিকেল রিপোর্ট বা ডিএনএ টেস্ট সব সময় চূড়ান্ত নয়; কারণ ঘটনার সময় বা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে অনেক সময় শারীরিক চিহ্ন না-ও থাকতে পারে।

তাৎপর্য ও সিদ্ধান্ত

বিচারপতি গৌড় তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় নির্যাতিতাকে কেবল একজন ‘সাক্ষী’ হিসেবে দেখা হয় না, বরং তাঁর বয়ানকে সত্যতার মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয় যদি তাতে কোনো বড় ধরনের অসঙ্গতি না থাকে। আদালত নিম্ন আদালতের সাজাকে সঠিক বলে বহাল রাখে এবং অভিযুক্তের আপিলটি খারিজ করে দেয়। এই রায় নারীদের সুরক্ষায় এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button