
এলন মাস্কের মালিকানাধীন সংস্থা এক্স কর্পোরেশন (X Corp.), যা পূর্বে টুইটার নামে পরিচিত ছিল, ভারতে অনলাইন কন্টেন্ট ব্লক করার সরকারি প্রক্রিয়াকে সমর্থনকারী কর্ণাটক হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। সংস্থাটি দাবি করেছে যে, এই রায় সরকারকে ‘অসাংবিধানিক সমান্তরাল ব্লকিং ব্যবস্থা’ তৈরি করার সুযোগ করে দিচ্ছে, যার ফলে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
বিবাদের মূল কারণ
কেন্দ্রীয় সরকার তথ্যপ্রযুক্তি (IT) আইনের ধারা ৬৯এ (Section 69A) অনুসারে নির্দিষ্ট বিধি মেনে জরুরি পরিস্থিতিতে কন্টেন্ট ব্লক করার নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু, সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) ‘সাহযোগ’ (Sahyog) পোর্টাল এবং আইটি আইনের ধারা ৭৯(৩)(বি) ব্যবহার করে ভিন্ন একটি পদ্ধতি চালু করেছে।
এক্স কর্পোরেশনের মতে, কর্ণাটক হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় এই সমান্তরাল পদ্ধতিকে বৈধতা দিয়েছে। এতে করে দেশের হাজার হাজার নির্বাহী ও পুলিশ অফিসারকে ধারা ৬৯এ-তে থাকা আইনি সুরক্ষা ছাড়াই সংবাদ, রাজনৈতিক সমালোচনা বা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এক্স-এর মূল যুক্তি
এক্স কর্পোরেশনের আপিলের প্রধান যুক্তিগুলি হল:
-
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের লঙ্ঘন: সংস্থাটি দাবি করেছে, হাইকোর্টের রায়টি সুপ্রিম কোর্টের landmark রায় শ্রিয়া সিংঘল বনাম ভারত সরকার (Shreya Singhal v. Union of India) মামলার রায়ের বিরোধী। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, শুধুমাত্র ৬৯এ ধারা বা আদালতের নির্দেশেই অনলাইন তথ্য ব্লক করা যেতে পারে।
-
স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা: আপিল আবেদনে বলা হয়েছে, এই ‘সাহযোগ’ ব্যবস্থা ব্যবহার করে অনেক সময় সংবাদ প্রতিবেদন, রাজনৈতিক সমালোচনা এবং সাংবাদিকদের অ্যাকাউন্টও ব্লক করার নির্দেশ এসেছে, যা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী সেন্সরশিপের নামান্তর।
-
আইনি দুর্বলতা: এক্স যুক্তি দিয়েছে যে, যে রুলের (IT Rules 2021-এর Rule 3(1)(d)) অধীনে এই ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, সেটিরই কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং এটি আইনি প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এক্স কর্পোরেশন এই আপিলের মাধ্যমে সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বাতিল, রুল ৩(১)(ডি) বাতিল এবং ধারা ৭৯(৩)(বি) ব্যবহার করে সরকারকে কন্টেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি—এই মর্মে ঘোষণা চাইছেন।



