উপস্থিতি কম হলেও আইন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ দিল সুপ্রিম কোর্ট
এককালীন স্বস্তি, চলতি শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষায় বসতে পারবেন হাজারো এলএলবি শিক্ষার্থী

আইন কলেজে উপস্থিতির (Attendance) ঘাটতির কারণে শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় থাকা হাজার হাজার আইন শিক্ষার্থীকে বড় স্বস্তি দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত এককালীন (one-time) বিশেষ ছাড় দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ চলমান ছিল যখন দিল্লি হাইকোর্ট উপস্থিতি সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করার নির্দেশ দিয়েছিল, তাঁদের শুধুমাত্র উপস্থিতির ঘাটতির কারণে চূড়ান্ত পরীক্ষা বা সেই শিক্ষাবর্ষের সম্পূরক (Supplementary) পরীক্ষায় বসতে বাধা দেওয়া যাবে না।
বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি আর. মহাদেবন এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করেন।
মামলার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর দিল্লি হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়কে কেন্দ্র করে। ওই রায়ে আদালত বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI)-কে তিন বছর ও পাঁচ বছরের এলএলবি (LL.B.) কোর্সে বাধ্যতামূলক উপস্থিতির নিয়ম পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি আদালত জানায়, উপস্থিতির নিয়ম পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চলাকালীন শুধুমাত্র উপস্থিতির ঘাটতির কারণে কোনও আইন কলেজ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসতে বাধা দিতে পারবে না।
দিল্লি হাইকোর্টের ওই রায়ের পর বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া দেশের বিভিন্ন আইন কলেজকে নির্দেশ দেয়, উপস্থিতির অভাবের কারণে যেন শিক্ষার্থীদের আটকানো না হয়। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই নির্দেশের ফলে বহু শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বাস করেছিলেন যে, উপস্থিতির ঘাটতি থাকলেও তাঁদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে কোনও বাধা থাকবে না।
পরবর্তীকালে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়। ২০২৬ সালের ২৬ মে সুপ্রিম কোর্ট একটি অন্তর্বর্তী আদেশে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখে। তবে সেই স্থগিতাদেশ ভবিষ্যতের জন্য (prospective) প্রযোজ্য ছিল। ফলে এর আগে যাঁরা দিল্লি হাইকোর্টের রায় এবং বার কাউন্সিলের নির্দেশের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাঁদের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, দিল্লি হাইকোর্টের রায় এবং তার পরবর্তী সময়ে বার কাউন্সিলের নির্দেশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি যুক্তিসঙ্গত ও সৎ বিশ্বাস (bona fide belief) তৈরি করেছিল যে, উপস্থিতির ঘাটতির জন্য তাঁদের পরীক্ষায় বসতে বাধা দেওয়া হবে না।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলে, “যেসব শিক্ষার্থী সৎ বিশ্বাসে মনে করেছিলেন যে শুধুমাত্র উপস্থিতির ঘাটতি তাঁদের পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে বাধা হবে না, তাঁরা এককালীন ব্যবস্থা হিসেবে সন্দেহের সুবিধা (benefit of doubt) পাওয়ার অধিকারী।”
সুপ্রিম কোর্ট আরও স্পষ্ট করে দেয়, ২৬ মে ২০২৬-এর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর ছিল। তাই এর আগে যে সময়ে শিক্ষার্থীরা দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর রয়েছে বলে ধরে নিয়ে চলেছেন, সেই সময়ের জন্য তাঁদের কোনও ধরনের শিক্ষাগত ক্ষতির মুখে ফেলা উচিত নয়।
এই যুক্তির ভিত্তিতে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিয়ে নির্দেশ দেয়, যেসব শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর দিল্লি হাইকোর্টের রায় ঘোষণার সময় চলমান ছিল, তাঁদের উপস্থিতির ঘাটতির অজুহাতে চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে বাধা দেওয়া যাবে না।
এছাড়াও, যেসব শিক্ষার্থী উপস্থিতির অভাবের কারণে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাঁদের একই শিক্ষাবর্ষের সম্পূরক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এটি একটি এককালীন বিশেষ ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে উপস্থিতি সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে এই আদেশকে নজির হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
মামলার চূড়ান্ত শুনানির জন্য আদালত আগামী ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করেছে। ওই দিন উপস্থিতি সংক্রান্ত নিয়ম এবং বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার নীতিমালা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে আরও শুনানি হবে।
এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে দেশের বিভিন্ন আইন কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেলেন। উপস্থিতির ঘাটতির কারণে যাঁদের শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল, তাঁরা এখন অন্তত চলতি শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা বা সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
কেস টাইটেল: Prakruthi Jain v. Bar Council of India (with connected matters) — W.P.(C) No. 31/2025, W.P.(C) No. 32/2025, SLP (Crl.) No. 9450/2026 and connected matter.
prakruthi_jain_v_bar_council_of_india_with_connected_matters


