সোশ্যাল মিডিয়ায় আইনজীবীদের জন্য কড়া আচরণবিধি জারি বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার, নতুনদের জন্য বাধ্যতামূলক অঙ্গীকারপত্র
Summoning Advocates Who Give Legal Opinion or Represent Parties During Investigation of Cases (Supreme Court, 2025)

ভারতের বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI) আইনজীবী, আইন শিক্ষার্থী এবং আইন ইন্টার্নদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে একটি বিস্তৃত আচরণবিধি জারি করেছে। ১৭ জুলাই প্রকাশিত একটি সার্কুলারে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে হলে প্রত্যেক আবেদনকারীকে একটি বাধ্যতামূলক অঙ্গীকারপত্র বা সম্মতিপত্র জমা দিতে হবে।
এই অঙ্গীকারপত্রে আবেদনকারীকে ঘোষণা করতে হবে যে তিনি আদালতের কার্যক্রম, মক্কেলের গোপন তথ্য, চেম্বারের নথি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি কনটেন্ট, ডিপফেক, ভয়েস ক্লোন বা অন্য কোনও ডিজিটাল মাধ্যম পেশাগত নীতির পরিপন্থীভাবে ব্যবহার করবেন না। এছাড়াও পেশাগত পরিচয়ের অপব্যবহার, বিভ্রান্তিকর আইনি তথ্য প্রচার এবং বিকৃত বা কৃত্রিম ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহারের বিরুদ্ধেও অঙ্গীকার করতে হবে।
যাঁরা ইতিমধ্যেই আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছেন, তাঁদের নতুন করে অঙ্গীকারপত্র জমা দিতে হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বার কাউন্সিলগুলিকে তাঁদের ডিজিটাল নৈতিকতা, গোপনীয়তা, আদালতের শিষ্টাচার, বিজ্ঞাপন নিষেধাজ্ঞা এবং AI-এর দায়িত্বশীল ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী আদালত চত্বর, আদালতকক্ষ, করিডর, বার রুম, চেম্বার বা বিচার বিভাগীয় ভবনের ভিতরে রিল, ভিডিও, ছবি বা প্রচারমূলক কনটেন্ট তৈরি করা যাবে না। আদালতের গাউন, ব্যান্ড বা রোব ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারও নিষিদ্ধ, যদি না বার কাউন্সিলের নিয়মে তা অনুমোদিত হয়। আদালতের কার্যক্রম রেকর্ড করাও আদালতের অনুমতি ছাড়া করা যাবে না।
BCI স্পষ্ট করেছে, কোনও আইনজীবী সরাসরি বা জুনিয়র ও ইন্টার্নদের মাধ্যমে ক্লায়েন্ট আকর্ষণ বা আত্মপ্রচার করতে পারবেন না। “গ্যারান্টিযুক্ত জামিন”, “নিশ্চিত খালাস”, “তাৎক্ষণিক বিবাহবিচ্ছেদ” বা “নিশ্চিত স্থগিতাদেশ”-এর মতো বিভ্রান্তিকর দাবি করে প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালত, মক্কেলের নথি বা পেশাগত পরিচয় ব্যবহার করে অনুসারী বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কনটেন্ট প্রকাশ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
AI ব্যবহার করে তৈরি বা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত আইনি লেখা, ছবি, ভিডিও, ভয়েসওভার বা অন্যান্য কনটেন্ট প্রকাশ করলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। ডিপফেক বা ভুয়া ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
আইন শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের ক্ষেত্রেও আলাদা আচরণবিধি জারি হয়েছে। প্রতিটি ইন্টার্নশিপের আগে তাঁদের লিখিত অঙ্গীকারপত্র দিতে হবে। আদালতের কার্যক্রম, মক্কেলের বৈঠক, চেম্বারের আলোচনা, আইনি গবেষণা বা নথি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা যাবে না। “ডে ইন কোর্ট”, “ডে ইন চেম্বার” বা “লইয়ার লাইফ”-এর মতো কনটেন্ট পোস্ট করাও নিষিদ্ধ।
BCI সুপ্রিম কোর্টের In Re: Summoning Advocates Who Give Legal Opinion or Represent Parties During Investigation of Cases (2025) মামলার উল্লেখ করে জানিয়েছে, আইনজীবী ও মক্কেলের মধ্যে হওয়া যোগাযোগ ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম, ২০২৩-এর ১৩২ ধারার অধীনে সম্পূর্ণ গোপনীয়। তাই ইন্টার্ন, জুনিয়র বা চেম্বারের কর্মীরাও সেই তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন না।
এই আচরণবিধি কার্যকর করতে প্রতিটি রাজ্য বার কাউন্সিলকে ডিজিটাল এথিক্স কমিটি বা নোডাল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে BCI স্পষ্ট করেছে, এই নির্দেশিকা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, নৈতিক পুলিশিং বা বৈধ সমালোচনা দমন করার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে আইনি সচেতনতা, একাডেমিক আলোচনা, আইনি প্রতিবেদন এবং জনসাধারণের আইন শিক্ষা এই নির্দেশিকার আওতার বাইরে থাকবে।



