অভিযোগকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের, ক্রিকেটার অভিষেক পোরেলের ডিভাইস জব্দের নির্দেশ

কলকাতা হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশে পুলিশকে বেঙ্গল ও দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্রিকেটার অভিষেক পোরেল এবং অপর এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে বলেছে। পাশাপাশি, অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও যাতে তদন্ত চলাকালীন ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস অবিলম্বে জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই এই নির্দেশ দেন। একটি রিট আবেদনের শুনানিতে আদালত এই পর্যবেক্ষণ করে, যেখানে অভিযোগকারিণী মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছিলেন।
আবেদনকারিণীর অভিযোগ, অভিষেক পোরেল তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি আরও দাবি করেন, তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও তার সম্মতি ছাড়া ধারণ করা হয়েছিল। পরে সেই ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে হুগলির মগরা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita বা BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। তবে অভিযোগকারিণীর দাবি, অভিযোগের গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও তদন্তকারী সংস্থা এখনও পর্যন্ত সেই ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো জব্দ করতে পারেনি, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত থাকতে পারে।
শুনানির সময় আদালত জানতে পারে, পুলিশের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে আদালত অভিযোগকারিণীর এই আশঙ্কাকেও গুরুত্ব দেয় যে, অভিযুক্তদের ডিভাইস জব্দ না করা হলে সেখানে থাকা ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন যে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ যেন অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে এবং তাদের ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে, যাতে সেখানে সংরক্ষিত আপত্তিকর তথ্য বা উপাত্ত আর ছড়িয়ে না পড়ে।
আদালত তদন্তকারী সংস্থাকে মোবাইল ফোনসহ প্রয়োজনীয় সব ডিজিটাল ডিভাইস দ্রুত জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে, তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত উল্লেখ করে পরবর্তী শুনানির আগে আদালতে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিল করতেও বলা হয়েছে।
এই নির্দেশের মাধ্যমে আদালত একদিকে যেমন অভিযোগকারিণীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ এবং তদন্তকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে।



