ইমেল আইডি তৈরি করলেই পরিচয় চুরি নয়, গুরুত্বপূর্ণ রায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের
আইটি আইনের ৬৬-সি ধারার আওতা নিয়ে পুলিশের এফআইআর আপাতত স্থগিত

লখনউ: অন্য কোনও ব্যক্তির নামে ইমেল আইডি তৈরি করলেই সেটিকে সরাসরি ‘পরিচয় চুরি’ বা Identity Theft বলা যাবে না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একটি মামলায় আদালত জানিয়েছে, শুধুমাত্র অন্য ব্যক্তির নামে ইমেল আইডি তৈরি করার অভিযোগ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০৮-এর ৬৬-সি ধারায় অপরাধ prima facie প্রতিষ্ঠিত হয় না।
এই পর্যবেক্ষণের পর দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করেছে আদালত। একই সঙ্গে ওই এফআইআরের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এই নির্দেশ দেয় বিচারপতি আবদুল মঈন এবং বিচারপতি প্রমোদ কুমার শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ।
মামলার সূত্রপাত ২৩ জুলাই, ২০২৬-এ। প্রতাপগড়ের আসপুর দেবসরা থানায় Case Crime No. 0193 of 2026 হিসেবে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। সেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা BNS-এর ৩৫৬(২) ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০৮-এর ৬৬-সি ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল।
আবেদনকারীদের বক্তব্য ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হল, তাঁরা তৃতীয় এক ব্যক্তির নামে একটি ইমেল আইডি তৈরি করেছিলেন এবং সেই ইমেল ব্যবহার করে বিভিন্ন অভিযোগ পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের দাবি, এই ধরনের কাজকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬-সি ধারার অধীনে পরিচয় চুরির অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
কারণ, ৬৬-সি ধারায় মূলত কোনও ব্যক্তির ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর, পাসওয়ার্ড অথবা অন্য কোনও ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন ফিচার প্রতারণামূলক বা অসৎভাবে ব্যবহার করার বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আদালতও এই বিষয়টিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চ লক্ষ্য করে, আইনপ্রণেতারা ৬৬-সি ধারায় ‘electronic signature’, ‘password’ এবং ‘unique identification feature’—এই নির্দিষ্ট শব্দগুলি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু সেখানে ‘e-mail ID’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি।
অর্থাৎ, আইনটির ভাষা অনুযায়ী শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির নামে একটি ইমেল আইডি তৈরি করাকে ৬৬-সি ধারার অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে কি না, সেটিই হয়ে ওঠে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
আদালত আবেদনকারীদের পক্ষের বক্তব্যের প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পায় যে, শুধুমাত্র ইমেল আইডি তৈরির অভিযোগের ভিত্তিতে ৬৬-সি ধারার অপরাধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না।
ফলে আদালত ২৩ জুলাইয়ের ওই এফআইআরের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখে। পাশাপাশি, এফআইআরটির ভিত্তিতে আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে আদালতের এই পর্যায়ের নির্দেশকে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা যাবে না। এটি একটি prima facie পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী শুনানিতে মামলার অন্যান্য বিষয়ও আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে।
এই রায়ের গুরুত্ব মূলত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬-সি ধারার ব্যাখ্যার সঙ্গে যুক্ত। কারণ, ডিজিটাল যুগে অন্যের নামে ইমেল অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল বা অনলাইন পরিচয় তৈরি করার ঘটনা ক্রমশ সামনে আসছে। কিন্তু প্রতিটি এমন ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৬৬-সি ধারার ‘identity theft’-এর মধ্যে পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে আইনের নির্দিষ্ট ভাষা এবং অভিযোগের প্রকৃতির ওপর।
Krishna Kant Pandey And Another v. State Of U.P. Thru Prin. Secy. Home Lko And Others


