জাতের শংসাপত্র বাতিল হলেও তিন দশকের পেনশন রক্ষা করল সুপ্রিম কোর্ট
টোকরে কোলি দাবি খারিজ, অবসরের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেন না প্রাক্তন কর্মী

একদিকে বাতিল হল ‘টোকরে কোলি’ তফসিলি উপজাতি হিসেবে জাতিগত পরিচয়ের দাবি, অন্যদিকে তিন দশকের বেশি সরকারি চাকরির কথা মাথায় রেখে অবসরকালীন পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা রক্ষা করল সুপ্রিম কোর্ট। ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এর এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, জাতিগত শংসাপত্রের দাবি ভুল প্রমাণিত হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের চাকরির ভিত্তিতে অবসরকালীন সুবিধা সুরক্ষিত রাখা যেতে পারে।
বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি বিপুল এম. পাঞ্চোলির বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। আদালত অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিরীষ পন্ধারিনাথ পাটিলের ‘টোকরে কোলি’ Scheduled Tribe হিসেবে দাবি বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।
মামলার সূত্রপাত ১৯৮৪ সালে। ওই বছর শিরীষ পন্ধারিনাথ পাটিলকে ‘টোকরে কোলি’ Scheduled Tribe হিসেবে উল্লেখ করে একটি জাতিগত শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল। সেই শংসাপত্রের ভিত্তিতে ১৯৯৪ সালে তিনি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ গ্রেটার মুম্বইয়ে Junior Engineer (Civil) পদে চাকরি পান। পরে ১৯৯৯ সালে তাঁর পদোন্নতিও হয়।
তবে ২০০৮ সালে তাঁর জাতিগত পরিচয় যাচাইয়ের জন্য বিষয়টি Scrutiny Committee-র কাছে পাঠানো হয়। তদন্তের দায়িত্ব নেয় Police Vigilance Cell। পুরনো পারিবারিক নথিপত্র খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা দেখতে পান, তাঁর পিতৃকুলের পূর্বপুরুষদের বিভিন্ন নথিতে ‘Koli’, ‘Hindu Koli’ এবং ‘Hindu Suryawanshi Koli’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর দীর্ঘ প্রক্রিয়ার শেষে ২৭ জুলাই, ২০২০ তাঁর জাতিগত শংসাপত্র বাতিল করে Scrutiny Committee। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ বম্বে হাইকোর্টও Scrutiny Committee-র সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর বিষয়টি পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে।
শীর্ষ আদালতও Scrutiny Committee এবং বম্বে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে কোনও ভুল খুঁজে পায়নি। অর্থাৎ, ‘টোকরে কোলি’ Scheduled Tribe হিসেবে শিরীষ পাটিলের দাবি আদালতও গ্রহণ করেনি।
তবে মামলার অন্য একটি দিক আদালতের বিশেষ নজর কাড়ে। শিরীষ পাটিল জানান, তিনি ৩০ জুন, ২০২৫ অবসর নিয়েছেন। ১৯৯৪ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর অবসর পর্যন্ত তিনি তিন দশকেরও বেশি সময় কাজ করেছেন। তাঁর আরও বক্তব্য ছিল, বিতর্কিত জাতিগত শংসাপত্রের ভিত্তিতে তাঁর কোনও সন্তান বা পরিবারের অন্য কোনও সদস্য কোনও সুবিধা নেননি।
এই পরিস্থিতিতে আদালত তাঁর দীর্ঘ চাকরিজীবনের বিষয়টি বিবেচনা করে। সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টকে যে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত মনে করে, এত বছর চাকরি করার পর তাঁকে অবসরকালীন ও পেনশন সংক্রান্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না।
আদালত জানায়, শিরীষ পাটিল ২১ অক্টোবর, ১৯৯৪ থেকে ৩০ জুন, ২০২৫ পর্যন্ত যে চাকরি করেছেন, সেই পরিষেবাকে শুধুমাত্র অবসরকালীন ও পেনশন সুবিধা হিসাব এবং প্রদানের ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেওয়া হবে।
তবে এই সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাও রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের অর্থ কখনওই ‘টোকরে কোলি’ Scheduled Tribe হিসেবে তাঁর জাতিগত দাবিকে বৈধতা দেওয়া নয়।
এমনকি ভবিষ্যতে শিরীষ পাটিল বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য ওই বাতিল হয়ে যাওয়া জাতিগত শংসাপত্রের ভিত্তিতে নতুন কোনও সুবিধা দাবি করতে পারবেন না।
অর্থাৎ, জাতিগত পরিচয়ের দাবি আদালত বাতিলই রেখেছে, কিন্তু দীর্ঘদিনের চাকরির জন্য ইতিমধ্যে অর্জিত পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধা সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়ার পথেও হাঁটেনি শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, তাঁর অবসরকালীন এবং পেনশন সংক্রান্ত সুবিধাগুলি প্রক্রিয়াকরণ করে রায়ের তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে তাঁকে প্রদান করতে হবে।
এইভাবে, একদিকে ভুয়ো বা ভুল জাতিগত পরিচয়ের দাবি স্বীকৃতি না দিয়েও, অন্যদিকে দীর্ঘ চাকরিজীবনের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে সীমিত মানবিক সুরক্ষা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
কেস টাইটেল
Shirish Pandharinath Patil v. The State of Maharashtra & Ors.



