বিয়ের অশান্তির মধ্যে স্ত্রীকে Baygon খাওয়ানোর অভিযোগ, প্রমাণের অভাবে স্বামীকে বেকসুর খালাস
ঘটনার পর স্ত্রীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আচরণও বিবেচনায় নিল আদালত

স্ত্রীকে জোর করে Baygon কীটনাশক খাওয়ানোর অভিযোগে খুনের চেষ্টার মামলা হয়েছিল স্বামীর বিরুদ্ধে। নিম্ন আদালত তাঁকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার সাজা দিয়েছিল। কিন্তু সেই রায় খারিজ করে স্বামীকে বেকসুর খালাস করল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত জানাল, খুনের চেষ্টা বা হত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে শুধু ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটাই যথেষ্ট নয়; অভিযুক্তের উদ্দেশ্য বা জ্ঞানও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে।
বিচারপতি বিমল কুমার যাদবের বেঞ্চ একটি ফৌজদারি আপিলের শুনানিতে এই রায় দিয়েছে। মামলাটি ছিল Nafe Singh v. State। আদালত একই সঙ্গে বলেছে, কোনও ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি কী আচরণ করেছেন, সেটিও তাঁর উদ্দেশ্য বা মানসিক অবস্থার মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিগত প্রমাণ হতে পারে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ওই দম্পতির মধ্যে আগে থেকেই দাম্পত্য অশান্তি চলছিল। অভিযোগ ছিল, একদিন বিবাদের সময় স্বামী প্রথমে একটি গ্লাসের মাধ্যমে স্ত্রীকে Baygon স্প্রে খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। স্ত্রী বাধা দিলে তিনি নাকি সরাসরি পাত্র থেকে তাঁর মুখে ওই কীটনাশক ঢেলে দেন।
ঘটনার পর স্ত্রীকে PCR গাড়িতে করে দ্রুত Sunder Lal Jain Hospital-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে স্বামী ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮A এবং ৩০৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বিচার চলাকালীন স্বামী ও তাঁর মা ৪৯৮A ধারার অভিযোগ থেকে খালাস পান। তবে স্বামীকে ৩০৭ ধারায় অর্থাৎ খুনের চেষ্টা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ট্রায়াল কোর্ট তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানার সাজা দেয়।
এরপর সেই রায়ের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করেন স্বামী। তাঁর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, মামলাটি মূলত দাম্পত্য অশান্তির ফল। চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে বিষক্রিয়ার নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। এমনকি gastric lavage-এর পরীক্ষাতেও কোনও বিষাক্ত পদার্থ পাওয়া যায়নি। তাঁর আরও দাবি ছিল, ঘটনার পর তিনিই পুলিশকে খবর দেন এবং স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
রাজ্যের তরফে অবশ্য নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার আবেদন করা হয়। অভিযোগকারী স্ত্রীর বক্তব্য এবং হাসপাতালে যাওয়ার সময় তাঁর বমি হওয়ার বিষয়টিকেও prosecution গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে।
তবে হাইকোর্ট মামলার চিকিৎসা ও ফরেনসিক প্রমাণ খতিয়ে দেখে সন্তুষ্ট হয়নি। আদালত জানায়, মামলার নথিতে যে ধরনের চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকা প্রয়োজন ছিল, তা পর্যাপ্তভাবে পাওয়া যায়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, PCR গাড়িতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর প্রাথমিক পরীক্ষায় ওই মহিলার শারীরিক parameters স্বাভাবিক ছিল এবং বিষক্রিয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। তাঁর gastric lavage সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু FSL রিপোর্টে কোনও বিষাক্ত পদার্থের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
Baygon-এর পাত্র নিয়েও মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি সামনে আসে। তদন্তকারী অফিসার আদালতে জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা পাত্রটি খালি ছিল। অথচ FSL-এ পরীক্ষার সময় সেই পাত্রে প্রায় ৪ মিলিলিটার Baygon কীটনাশক পাওয়া যায়। খালি বলে উল্লেখ করা পাত্রে পরে কীভাবে ওই পরিমাণ তরল পাওয়া গেল, তার কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা prosecution দিতে পারেনি।
৩০৭ ধারার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের Hari Singh v. Sukhbir Singh and Others (1988) মামলার নীতির উল্লেখ করে। আদালত জানায়, খুনের চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অভিযুক্তের প্রয়োজনীয় ‘intention’ বা ‘knowledge’। শারীরিক আঘাত হওয়া সবসময় অপরিহার্য নয়, কিন্তু অভিযুক্তের কাজের সঙ্গে হত্যার উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয় জ্ঞান যুক্ত ছিল কি না, তা প্রমাণ করতে হবে।
আদালত আরও বলে, কোনও ব্যক্তির মনের মধ্যে ঠিক কী উদ্দেশ্য কাজ করছিল, তা সরাসরি দেখা সম্ভব নয়। তাই তাঁর আচরণ, পরিস্থিতি এবং ঘটনার আগে ও পরে তাঁর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেই উদ্দেশ্য বা জ্ঞান বিচার করতে হয়।
এই কারণেই ঘটনার পর স্বামীর আচরণকেও আদালত গুরুত্ব দেয়। বিচারপতি যাদব বলেন, স্ত্রীকে ঘটনার পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই আচরণ একা তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করে না ঠিকই, কিন্তু ৩০৭ ধারার প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্য বা জ্ঞান ছিল কি না, তা বিচার করার সময় এটি অবশ্যই প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি।
আদালত অভিযোগকারী স্ত্রীকে একজন injured witness হিসেবে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। তবে আদালত স্পষ্ট করে, আহত সাক্ষীর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। সেই বক্তব্যকে মামলার অন্যান্য পরিস্থিতি এবং চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
সব প্রমাণ একসঙ্গে বিচার করে আদালত মনে করে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটি বিবাদ বা altercation হয়েছিল—এটা prosecution প্রমাণ করতে পেরেছে। কিন্তু সেই বিবাদের সময় স্বামী স্ত্রীকে জোর করে Baygon খাইয়েছিলেন এবং তাঁর মধ্যে ৩০৭ ধারায় প্রয়োজনীয় হত্যার উদ্দেশ্য বা জ্ঞান ছিল—এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
বিশেষ করে চিকিৎসা ও ফরেনসিক প্রমাণের ঘাটতি, Baygon-এর পাত্র নিয়ে অসঙ্গতি এবং ঘটনার পর অভিযুক্তের আচরণ মিলিয়ে আদালত মনে করে prosecution-এর মামলা যথেষ্ট দুর্বল।
ফলে সন্দেহের সুবিধা দিয়ে দিল্লি হাইকোর্ট স্বামী Nafe Singh-কে ৩০৭ ধারার অভিযোগ থেকে খালাস করে দেয়। তাঁর bail bond-ও discharge করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাকি আবেদনগুলি নিষ্পত্তি করে রায়ের কপি ট্রায়াল কোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট জেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
কেস টাইটেল: Nafe Singh v. State
Neutral Citation: 2026:DHC:7091



