হাইকোর্ট

জাতীয় পতাকা নিয়ে ত্রিবর্ণ যাত্রায় অনুমতি, পুলিশের নিষেধাজ্ঞা খারিজ করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট

শান্তিপূর্ণ মিছিলের অধিকার ও জাতীয় পতাকা বহনের সাংবিধানিক সুরক্ষা বিবেচনায় পুলিশের আপত্তি খারিজ করল আদালত

কোয়েম্বাটোরে প্রস্তাবিত ত্রিবর্ণ পতাকা যাত্রা (Tricolour Flag Yatra)-র অনুমতি দিতে অস্বীকার করে পুলিশের দেওয়া নির্দেশ খারিজ করেছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, জাতীয় পতাকা বহন, উত্তোলন এবং তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।

বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণন ১৪ আগস্ট ২০২৬ এই নির্দেশ দেন। মামলাটি ছিল W.P. Crl. No. 2089 of 2026

যাত্রার অনুমতি চেয়ে আবেদন

ভারতীয় জনতা পার্টির কোয়েম্বাটোর জেলা সভাপতি হিসেবে নিজেকে দাবি করা জে. রমেশ কুমার ১৩ আগস্ট বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ত্রিবর্ণ পতাকা যাত্রা আয়োজনের অনুমতি চেয়েছিলেন।

তবে পুলিশ প্রস্তাবিত রুটে যাত্রার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। পুলিশের বক্তব্য ছিল, ওই পথে যাত্রা হলে সাধারণ মানুষের অসুবিধা তৈরি হতে পারে এবং শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যদিও পুলিশ জানিয়েছিল, Women Polytechnic College Junction থেকে VOC Park পর্যন্ত যাত্রা করা হলে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

জাতীয় পতাকা বহনের সাংবিধানিক অধিকার

মাদ্রাজ হাইকোর্ট পুলিশের এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, জাতীয় পতাকা বহন, উত্তোলন এবং তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অধিকার সংবিধানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

সুপ্রিম কোর্টের Union of India v. Naveen Jindal মামলার রায়ের উল্লেখ করে হাইকোর্ট জানায়, জাতীয় পতাকা উত্তোলন বা ওড়ানোর অধিকার সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(১)(a)-এর অধীনে বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। তবে এই অধিকার সংবিধানসম্মত যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধের অধীন।

আদালত আরও জানায়, অনুচ্ছেদ ১৯(১)(b)-এর অধীনে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার অধিকারকে অনুচ্ছেদ ১৯(১)(a)-এর সঙ্গে একত্রে পড়লে শান্তিপূর্ণ মিছিলের সময় জাতীয় পতাকা বহনের অধিকারও তার আওতায় পড়ে।

অধিকার থাকলেও তা সীমাহীন নয়

তবে বিচারপতি লক্ষ্মীনারায়ণন স্পষ্ট করেন, এই অধিকার সম্পূর্ণ সীমাহীন নয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, “one man’s right ends where another man’s nose begins.”

অর্থাৎ, একজনের অধিকার অন্য ব্যক্তির অধিকার বা স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জায়গায় গিয়ে শেষ হয়।

তাই শান্তিপূর্ণ মিছিলের অধিকার এবং জাতীয় পতাকা বহনের অধিকার থাকলেও জনসাধারণের অসুবিধা, আইনশৃঙ্খলা এবং অন্যান্য সাংবিধানিকভাবে অনুমোদিত বিধিনিষেধের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

৫ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে SOP

মামলার শুনানিতে আদালত রাজ্যের জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি Standard Operating Procedure (SOP)-এর বিষয়টিও পরীক্ষা করে।

আদালত লক্ষ্য করে, ওই SOP মূলত ৫,০০০-এর বেশি মানুষ অংশ নেবেন—এমন জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

কিন্তু আবেদনকারী যে অনুমতি চেয়েছিলেন, তাতে ৫,০০০-এর বেশি মানুষের সমাবেশের কোনও উল্লেখ ছিল না। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই SOP-এর উপর নির্ভর করে পুলিশের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল না বলে আদালত মনে করে।

নতুন রুটে যাত্রার অনুমতি

শুনানির সময় আবেদনকারী জেলা প্রশাসকের নির্ধারিত একটি বিকল্প রুটে যাত্রা করতে সম্মত হন। প্রযোজ্য কাঠামোর অধীনে নির্ধারিত Route No. 236, অর্থাৎ MTP Road ARC Junction থেকে North Kovai Chinthamani Junction পর্যন্ত রুটটি গ্রহণ করেন তিনি।

পুলিশও ওই রুটে যাত্রার বিষয়ে সম্মতি জানায়।

দুই পক্ষের সম্মতি আদালত নথিভুক্ত করে এবং ১৮ আগস্ট ২০২৬ বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই রুটে ত্রিবর্ণ পতাকা যাত্রা করার অনুমতি দেয়।

এর ফলে আদালত পুলিশের আগের আপত্তিকর নির্দেশটি খারিজ করে এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় পরবর্তী নির্দেশ বা consequential order জারি করতে বলে।

মামলার নিষ্পত্তি

মাদ্রাজ হাইকোর্ট রিট পিটিশনটির নিষ্পত্তি করেছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মিসলেনিয়াস পিটিশনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মামলায় কোনও খরচ ধার্য করা হয়নি।

আদালতের এই সিদ্ধান্তে শান্তিপূর্ণ মিছিলের অধিকার এবং জাতীয় পতাকা বহনের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। একইসঙ্গে আদালত জনসাধারণের স্বার্থ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তাও বিবেচনার মধ্যে রেখেছে।

মামলার বিবরণ

মামলার নাম: J. Ramesh Kumar v. State of Tamil Nadu & Ors.

মামলা নম্বর: W.P. Crl. No. 2089 of 2026

বিচারপতি: বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণন

রায়ের তারিখ: ১৪ আগস্ট ২০২৬

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button