নাবালিকার সঙ্গে সম্পর্কে পুলিশি সুরক্ষা নয়, স্পষ্ট জানাল পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্ট
নাবালকের কল্যাণই সর্বাগ্রে, সম্পর্কের পরোক্ষ স্বীকৃতি দিতে পারে না আদালত

নাবালিকা এক কিশোরী এবং এক প্রাপ্তবয়স্ক যুবকের যৌথভাবে দায়ের করা পুলিশি সুরক্ষার আবেদন খারিজ করে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, আবেদনকারীদের একজন যেহেতু স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নাবালিকা, তাই এই পরিস্থিতিতে তাদের চাওয়া পুলিশি সুরক্ষা দেওয়া যায় না। তবে আদালত লুধিয়ানার পুলিশ কমিশনারকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি সুমিত গোয়েল এই রায় দেন। মামলায় আবেদনকারীরা দাবি করেছিলেন, তাঁদের পারিবারিক সদস্যদের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি রয়েছে। তাই তাঁদের জীবন ও স্বাধীনতার সুরক্ষার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, দুই আবেদনকারী দীর্ঘদিন ধরে একে অপরকে চিনতেন। তাঁরা আদালতকে জানান, কিশোরী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তাঁরা বিয়ে করতে চান। তবে আবেদনেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, প্রথম আবেদনকারী এখনও নাবালিকা এবং দ্বিতীয় আবেদনকারী একজন প্রাপ্তবয়স্ক।
শুনানিতে আবেদনকারীদের আইনজীবী জানান, কিশোরীর পরিবার তাঁর অন্যত্র বিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মারধর ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ২২ জুলাই কিশোরী নিজের বাড়ি ছেড়ে দ্বিতীয় আবেদনকারীর সঙ্গে চলে যান। এরপর উভয়েই বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন বলে আদালতে দাবি করেন। এই কারণেই তাঁরা অবিলম্বে পুলিশি সুরক্ষার আবেদন জানান।
মামলাটি বিচার করতে গিয়ে বিচারপতি সুমিত গোয়েল নাবালকদের নিয়ে পূর্ববর্তী আইনি অবস্থান বিশদভাবে পর্যালোচনা করেন। আদালত বিশেষভাবে ২০২৪ সালের Yash Pal and Another v. State of Haryana and Others মামলায় ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া রায়ের উল্লেখ করে। সেই রায়ে বলা হয়েছিল, কোনো নাবালক বা নাবালিকা যদি লিভ-ইন সম্পর্কে থাকে, তাহলে আদালত এমন কোনো সুরক্ষা দিতে পারে না, যা পরোক্ষভাবে ওই সম্পর্ককে স্বীকৃতি বা সমর্থন দেয়।
হাইকোর্ট পূর্ববর্তী রায় উদ্ধৃত করে জানায়, “নাবালকের কল্যাণ ও মঙ্গলই সর্বোচ্চ বিবেচ্য বিষয়।” আদালতের মতে, এ ধরনের ক্ষেত্রে পুলিশি সুরক্ষা দিলে তা নাবালককে জড়িয়ে থাকা সম্পর্কের প্রতি আদালতের পরোক্ষ অনুমোদন হিসেবে দেখা যেতে পারে। অথচ শিশুদের সুরক্ষার জন্য প্রণীত আইন ও নীতির সঙ্গে এমন অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আদালত আরও লক্ষ্য করে যে, আবেদনেই উল্লেখ রয়েছে প্রথম আবেদনকারীর জন্মতারিখ ১১ আগস্ট ২০০৯। ফলে আবেদন দায়েরের সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ১৬ বছর ১১ মাস। অর্থাৎ তিনি এখনও প্রাপ্তবয়স্ক হননি।
এই পরিস্থিতিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আবেদনকারীরা যে ধরনের পুলিশি সুরক্ষা চেয়েছেন, তা আইন অনুযায়ী দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, একজন নাবালিকাকে ঘিরে থাকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদালত এমন কোনো নির্দেশ দিতে পারে না, যা আইনের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হয়।
তবে আদালত আবেদন পুরোপুরি উপেক্ষা করেনি। হাইকোর্ট লুধিয়ানা জেলার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি আইন অনুযায়ী বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। একই সঙ্গে আদালতের রায় এবং সম্পূর্ণ আবেদনপত্রের অনুলিপি পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানোর জন্য রেজিস্ট্রিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলায় বিচারাধীন অন্যান্য আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং মামলায় কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে খরচ বা ব্যয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
এই রায়ে হাইকোর্ট আবারও স্পষ্ট করে দিল, জীবন ও স্বাধীনতার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কোনো নাবালক বা নাবালিকাকে ঘিরে থাকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদালতের প্রথম দায়িত্ব হলো তার নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তাই এমন পরিস্থিতিতে আদালত এমন কোনো নির্দেশ দেবে না, যা পরোক্ষভাবে নাবালকের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে বৈধতা বা সমর্থন দেয়।
কেস টাইটেল: Sxxxx and Another v. State of Punjab and Others (CRWP-9197-2026)


