জোধপুরে সরকারি সম্পত্তি ওয়াকফ তালিকাভুক্তির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত হাইকোর্টের মামলা
বিচারকদের সরকারি বাসভবন, স্কুল, মন্দিরসহ একাধিক সম্পত্তি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ

রাজস্থানের জোধপুরে সরকারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় এবং আবাসিক সম্পত্তিকে সরকারি নথিতে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত করার অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়ো মোটো) জনস্বার্থ মামলা শুরু করেছে রাজস্থান হাইকোর্ট। আদালতের মতে, অভিযোগগুলি শুধু কয়েকটি সম্পত্তির মালিকানার প্রশ্ন নয়, বরং সরকারি নথির নির্ভরযোগ্যতা, সম্পত্তির আইনি মর্যাদা এবং আইন মেনে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে জড়িত।
বিচারপতি ড. পুষ্পেন্দ্র সিং ভাটি এবং বিচারপতি প্রবীর ভাটনাগরের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মামলার সূত্রপাত ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই প্রকাশিত দৈনিক ভাস্কর-এর জোধপুর সংস্করণের একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাজস্ব নথি, ওয়াকফ গেজেট এবং ‘উমেদ পোর্টাল’-এর তথ্য অনুযায়ী জোধপুরের খাসরা নম্বর ৪৮২, ৪৮৫ এবং ৪৯০-সহ একাধিক জমি ও সম্পত্তিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, গীতা ভবন, মন্দির, আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি, এমনকি দুই বিচারকের সরকারি বাসভবনও বিতর্কিত তালিকায় রয়েছে।
হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেছে, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কোনো সম্পত্তির আইনি চরিত্র বা মালিকানাগত অবস্থান পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই আইন নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা ডিজিটাল পোর্টালে কোনো তথ্য আপলোড করে কোনো সম্পত্তির আইনি অবস্থান পরিবর্তন করা যায় না।
আদালত জানায়, প্রাথমিকভাবে যে তথ্য তাদের সামনে এসেছে, তা তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে। কারণ, অভিযোগে উল্লিখিত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়, সরকারি ও বেসরকারি আবাসন, বাণিজ্যিক সম্পত্তি এবং বিচার বিভাগের সরকারি বাসভবন। এসব সম্পত্তির আইনি অবস্থান নিয়ে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তার প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক হতে পারে।
ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করেছে, এই বিষয়টি সরকারি নথির পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা, ওয়াকফ সম্পত্তির আইনসম্মত প্রশাসন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির আইনি চরিত্র পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
আদালত আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, কিছু ক্ষেত্রে ওয়াকফ হিসেবে নথিভুক্ত করার সময় কোনো মুতাওয়াল্লি নিয়োগের তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ‘উমেদ পোর্টাল’-এ কীভাবে এই তথ্য আপলোড করা হয়েছে, সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, এগুলি কেবল প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ। এই মুহূর্তে কোনো সম্পত্তির মালিকানা বা অধিকার সম্পর্কে আদালত কোনো চূড়ান্ত মত প্রকাশ করছে না।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে হাইকোর্ট সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে এটিকে একটি সুয়ো মোটো জনস্বার্থ মামলা (Public Interest Litigation) হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আদালত বিতর্কিত সম্পত্তিগুলির মালিকানা ও আইনি অবস্থার ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলির ক্ষেত্রে কোনো নামজারি (Mutation), হস্তান্তর, ইজারা, লাইসেন্স প্রদান, নতুন নির্মাণ বা ভাঙচুর করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এছাড়া জোধপুরের জেলা কালেক্টরকে সংশ্লিষ্ট সমস্ত রাজস্ব নথি সংরক্ষণ করে আদালতে পেশ করতে, জমিগুলির সরেজমিনে যাচাই করতে এবং একটি বিস্তারিত বাস্তবভিত্তিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজস্থান বোর্ড অব মুসলিম ওয়াকফ-কেও বিতর্কিত নথিভুক্তির মূল রেকর্ড আদালতে জমা দিতে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে ওই সম্পত্তিগুলিকে ওয়াকফ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
আগামী ১১ আগস্ট ২০২৬ মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
কেস টাইটেল: In Re: Alleged Recording of Public and Private Properties as Waqf Properties in Jodhpur (Suo Motu Public Interest Litigation)



