জব্দ সম্পত্তি নিয়ে ৪৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক, ম্যাজিস্ট্রেটদের কড়া বার্তা কর্ণাটক হাইকোর্টের
BNSS-এর ৪৯৭ ধারার সময়সীমা মেনে জব্দ সম্পত্তির নিষ্পত্তি করতে হবে, বিলম্বে আইনসভার নির্দেশই কার্যত নিষ্ফল হয়

জব্দ করা সম্পত্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আদালতগুলিকে আইনে নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা বা BNSS-এর ৪৯৭ ধারায় জব্দ সম্পত্তি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ করার বিধান রয়েছে বলে জানাল কর্ণাটক হাইকোর্ট।
বিচারপতি এম. নাগপ্রসন্ন-র আদালত স্পষ্ট করেছে, জব্দ সম্পত্তি সংক্রান্ত আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্ধারিত সময়সীমা অমান্য করা যাবে না।
এই রায় দেওয়া হয়েছে Mukesh Jain v. State of Karnataka মামলায়। আদালত দেখতে পায়, সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি।
কী ঘটেছিল মামলায়?
মামলাটির সূত্র একটি সাইবার অপরাধের তদন্ত। অভিযোগ ছিল, প্রায় ৪.৮৩ কোটি টাকা মূল্যের লেনদেন এবং Telegram গ্রুপের মাধ্যমে unlisted shares-এ বিনিয়োগ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিষয়টি যুক্ত।
বেঙ্গালুরুর CEN Crime Police Station-এ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তের পর এই মামলায় আবেদনকারীকে অভিযুক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে আবেদনকারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং বেশ কিছু জিনিসপত্র জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ছিল নগদ টাকা, সোনার গয়না, রুপোর সামগ্রী, চেকবই, ব্যাঙ্কের পাসবই, ঘড়ি এবং মোবাইল ফোন।
পরবর্তীতে আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে I.A. No. III দাখিল করে জব্দ সম্পত্তি নিয়ে প্রয়োজনীয় নিষ্পত্তি এবং অন্তর্বর্তীকালীন হেফাজত বা interim custody-এর আবেদন করেন।
কিন্তু আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পরেও আবেদনটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল। ফলে দ্রুত আবেদনটির নিষ্পত্তির নির্দেশ চেয়ে আবেদনকারী কর্ণাটক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
BNSS-এর ৪৯৭ ধারায় কী বলা হয়েছে?
বিচারপতি এম. নাগপ্রসন্ন এই মামলায় BNSS-এর ৪৯৭ ধারা বিশদে পরীক্ষা করেন এবং আগের Code of Criminal Procedure বা CrPC-এর ৪৫১ ধারার সঙ্গে তুলনা করেন।
আদালত উল্লেখ করে, পুরনো বিধানের তুলনায় BNSS-এর ৪৯৭ ধারায় জব্দ সম্পত্তির বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা যুক্ত করা হয়েছে।
ধারা ৪৯৭(২) অনুযায়ী, আদালতে জব্দ সম্পত্তি পেশ করার পর ১৪ দিনের মধ্যে আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেটকে সেই সম্পত্তির বিবরণ দিয়ে একটি statement প্রস্তুত করতে হবে।
এরপর প্রয়োজনীয় ছবি তোলা বা videography সম্পন্ন হওয়ার পরে ধারা ৪৯৭(৫) অনুযায়ী, সম্পত্তির নিষ্পত্তি, ধ্বংস, বাজেয়াপ্তকরণ অথবা হস্তান্তর সংক্রান্ত আদেশ ৩০ দিনের মধ্যে দিতে হবে।
অর্থাৎ প্রথম পর্যায়ে ১৪ দিন এবং পরবর্তী পর্যায়ে ৩০ দিন—সব মিলিয়ে মোট ৪৪ দিন হলেও আদালত আইনি কাঠামো অনুসারে জব্দের তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে।
হাইকোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ:
“Therefore, in all, the concerned Court is required to pass an order within 45 days from the date of the seizure.”
অর্থাৎ জব্দ করার তারিখ থেকে মোট ৪৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতকে আদেশ দিতে হবে।
আদালতগুলিকে সময়সীমা মানতেই হবে
কর্ণাটক হাইকোর্ট জানিয়েছে, Sections 497 এবং 503 BNSS-এর অধীনে জব্দ সম্পত্তি সংক্রান্ত আবেদন শুনতে গিয়ে আদালতগুলিকে আইনে নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
এই বিষয়ে আদালত এলাহাবাদ হাইকোর্ট এবং মাদ্রাজ হাইকোর্টের আগের কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছে। ওই রায়গুলিতেও BNSS-এর ৪৯৭ ধারার সময়সীমাবদ্ধ প্রকৃতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
হাইকোর্ট আরও নির্ভর করেছে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত Sunderbhai Ambalal Desai v. State of Gujarat-এর উপর। সেই মামলায় শীর্ষ আদালত জোর দিয়ে বলেছিল, তদন্তের সময় জব্দ করা সম্পত্তি দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি করা উচিত এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় পুলিশ হেফাজতে রেখে দেওয়া উচিত নয়।
ম্যাজিস্ট্রেটের বিলম্বে আদালতের অসন্তোষ
এই মামলায় কর্ণাটক হাইকোর্ট দেখতে পায়, সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আইন নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করেননি।
আদালত পর্যবেক্ষণ করে, এই ধরনের বিলম্বের ফলে আইনসভা যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, সেটিই কার্যত নিষ্ফল বা nugatory হয়ে যায়।
অর্থাৎ আইন স্পষ্টভাবে যখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জব্দ সম্পত্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, তখন আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা সেই আইনি উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে।
এক সপ্তাহের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ
শেষ পর্যন্ত কর্ণাটক হাইকোর্ট আবেদনটি মঞ্জুর করেছে।
আদালত mandamus জারি করে বেঙ্গালুরুর XLVII Additional Chief Metropolitan Magistrate-কে নির্দেশ দিয়েছে, হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের I.A. No. III-এর নিষ্পত্তি করতে হবে।
তবে আবেদনটি নিষ্পত্তির সময় হাইকোর্টের রায়ে করা পর্যবেক্ষণগুলি যথাযথভাবে বিবেচনা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
মামলার নাম: Mukesh Jain v. State of Karnataka
মামলা নম্বর: Writ Petition No. 5267 of 2026 (GM-RES)
আদালত: High Court of Karnataka at Bengaluru
বিচারপতি: বিচারপতি এম. নাগপ্রসন্ন
রায়ের তারিখ: ৭ জুলাই ২০২৬
এই রায়ের মাধ্যমে কর্ণাটক হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিল, জব্দ সম্পত্তি অনির্দিষ্টকাল আদালত বা পুলিশের হেফাজতে রেখে দেওয়া যাবে না। BNSS-এর ৪৯৭ ধারায় নির্ধারিত সময়সীমা মেনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ফৌজদারি আদালতের আইনগত দায়িত্ব।


