সুপ্রিমকোর্ট

শুধু গালাগালি বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করলেই ‘অশ্লীলতা’ নয়, গুরুত্বপূর্ণ রায় সুপ্রিম কোর্টের

Mani @ Subramaniyam v. State Rep. by the Deputy Superintendent of Police

সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ এক রায়ে জানিয়েছে, কোনও ঝগড়া বা বাগ্‌বিতণ্ডার সময় কেবল গালাগালি, অশালীন বা কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করলেই তা ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) অধীনে অশ্লীলতার (Obscenity) অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। আদালত অভিযুক্ত মণি ওরফে সুব্রামণিয়মের আপিল আংশিক মঞ্জুর করে তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(বি) এবং ৫০৬(২) ধারার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বাতিল করেছে। তবে বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত করার অপরাধে ৩২৬ ধারার দণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি বিপুল এম. পাঞ্চোলির বেঞ্চ ১৭ জুলাই ২০২৬ এই রায় দেয়।

মামলার সূত্রপাত একটি দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বিবাদ হয়। দু’দিন পরে অভিযুক্ত অভিযোগকারীর পরিবারের সামনে এসে গালাগালি করেন এবং একটি ধারালো বিলহুক (Billhook) দিয়ে অভিযোগকারীকে আঘাত করেন। এতে তাঁর নাকের হাড় ভেঙে যায়। এ ছাড়াও একাধিক জায়গায় গুরুতর চোট লাগে।

নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। পরে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এসসি/এসটি আইনের অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দিলেও ২৯৪(বি), ৩২৬ এবং ৫০৬(২) ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখে। এরপর অভিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আইন অনুযায়ী অশ্লীল শব্দ এবং গালাগালি বা কুরুচিকর ভাষা এক জিনিস নয়। ২৯৪(বি) ধারায় অপরাধ প্রমাণ করতে হলে প্রসিকিউশনকে দেখাতে হবে যে ব্যবহৃত শব্দ বা ভাষা এমন ছিল, যা যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, অশালীন আগ্রহ উসকে দেয় বা মানুষের নৈতিকতা নষ্ট করার প্রবণতা রাখে। পাশাপাশি সেটি জনসমক্ষে অন্যদের বিরক্তির কারণ হয়েছিল—এটিও প্রমাণ করতে হবে।

আদালত মন্তব্য করে, কেবলমাত্র গালাগালি বা কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার যতই অরুচিকর হোক না কেন, তা আইনের দৃষ্টিতে অশ্লীলতা নয়।

একই সঙ্গে আদালত ৫০৬(২) ধারায় ফৌজদারি ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও খারিজ করে। আদালতের মতে, ঝগড়ার সময় হুমকিসূচক কথা বললেই এই ধারা প্রযোজ্য হবে না। অভিযোগকারীকে ভয় দেখানো বা নির্দিষ্ট কাজ করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্য ছিল—এমন প্রমাণ থাকতে হবে।

তবে ৩২৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানায়, চিকিৎসা নথিতে অভিযোগকারীর নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের সঙ্গে চিকিৎসা প্রমাণের মিল রয়েছে।

অভিযুক্তের বয়স প্রায় ৭০ বছর এবং তিনি অসুস্থ হওয়ায় আদালত তাঁর সাজাও সংশোধন করেছে। তাঁকে দীর্ঘ কারাদণ্ডের পরিবর্তে নির্ধারিত দিনে আদালত মুলতবি হওয়া পর্যন্ত আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দুই মাসের মধ্যে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা জমা দিতে বলা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button