পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত বিচারে বিশেষ আদালত গঠন করল দিল্লি হাইকোর্ট
রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে একচেটিয়াভাবে শুনানি, বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন অনু গ্রোভার বালিগা

পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং সরকারি পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বনের অভিযোগে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ আদালত গঠন করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। রাজধানীর রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট কমপ্লেক্সে এই আদালত গঠন করা হয়েছে। জেলা বিচারক অনু গ্রোভার বালিগাকে এই বিশেষ আদালতের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি হাইকোর্টের জারি করা এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই আদালত শুধুমাত্র পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং সরকারি পরীক্ষায় অসাধু উপায় ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত ফৌজদারি মামলাগুলির শুনানি করবে। এসব মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে NEET-UG ২০২৬-এর কথিত প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও যুব সংগঠন প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আন্দোলন করেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারও বারবার সরকারি পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার ওপর জোর দিয়েছে।
হাইকোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং সরকারি পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বনের অভিযোগে প্রযোজ্য আইনের অধীনে যে ফৌজদারি মামলা দায়ের হবে, সেগুলির একমাত্র বিচারিক ফোরাম হবে এই বিশেষ আদালত। ফলে এসব মামলা আর বিভিন্ন আদালতে বিচ্ছিন্নভাবে চলবে না; বরং একটি নির্দিষ্ট আদালতেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হবে।
আদালতের মতে, পৃথক বিশেষ আদালত গঠনের ফলে এ ধরনের সংবেদনশীল মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে সমন্বয়ও বাড়বে।
বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব জেলার ডিস্ট্রিক্ট জাজ (কমার্শিয়াল)-০৪ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অনু গ্রোভার বালিগা। তাঁকেই রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট কমপ্লেক্সে গঠিত এই বিশেষ আদালতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের সেই ঘোষণারও পরিপূরক, যেখানে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের কথা বলা হয়েছিল। দিল্লি হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের দ্রুত বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ও সময়োপযোগী আইনি ব্যবস্থা পরীক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে



