বিকল্প আইনি প্রতিকার থাকলে সরাসরি হাইকোর্টে নয়, জানাল অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট
টেন্যান্সি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি আগে সেখানেই তুলতে হবে, আদালতের পর্যবেক্ষণ

অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো আইনে নির্দিষ্ট বিকল্প প্রতিকার (Alternative Remedy) উপলব্ধ থাকলে সরাসরি সংবিধানের ২২৭ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানমূলক (Supervisory) এখতিয়ার প্রয়োগের আবেদন করা যাবে না। বিশেষ করে, মামলার পক্ষ নন এমন কোনো তৃতীয় ব্যক্তি আগে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে আইন অনুযায়ী নিজের আপত্তি উত্থাপন না করে সরাসরি হাইকোর্টে আসতে পারেন না।
বিচারপতি রবি চিমালাপতি (Justice Ravi Cheemalapati) এই রায়ে বলেন, টেন্যান্সি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার বা অন্ধ্রপ্রদেশ (আন্ধ্র এলাকা) টেন্যান্সি আইন, ১৯৫৬ বাতিল হওয়ার প্রভাব সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রথমে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের সামনেই উত্থাপন করতে হবে। আইন যে প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে, সেই পথ অনুসরণ করাই যথাযথ।
মামলার পটভূমি
এই বিরোধের সূত্রপাত A.T.C. No. 2 of 2024 মামলাকে কেন্দ্র করে। সেখানে একজন ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি সংশ্লিষ্ট কৃষিজমির চাষি-ভাড়াটিয়া (Cultivating Tenant)। তিনি আদালতের কাছে নিজেকে বৈধ চাষি-ভাড়াটিয়া হিসেবে ঘোষণা করার পাশাপাশি জমির মালিকের কথিত হস্তক্ষেপ বন্ধে স্থায়ী ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন।
টেন্যান্সি ট্রাইব্যুনাল মামলাটি গ্রহণ করে নোটিস জারি করে এবং প্রাথমিকভাবে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞাও (Ad-interim Injunction) দেয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত শর্ত পূরণের নির্দেশ দেয়।
এরপর সনাকা মুরালি (Sanaka Murali), যিনি ওই টেন্যান্সি মামলার কোনো পক্ষ ছিলেন না, হাইকোর্টে একটি সিভিল রিভিশন পিটিশন দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমির ওপর তাঁর স্বাধীন অধিকার রয়েছে। তাঁর আরও যুক্তি ছিল, Andhra Pradesh (Andhra Area) Tenancy Act, 1956 ইতিমধ্যেই Andhra Pradesh (Andhra Area) Tenancy Repeal Act, 2022-এর মাধ্যমে বাতিল হয়েছে। ফলে বাতিল হওয়া আইনের অধীনে টেন্যান্সি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চালানোর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
অন্যদিকে, টেন্যান্ট ও জমির মালিক উভয়েই এই আবেদন খারিজের দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, আবেদনকারী যেহেতু মূল মামলার পক্ষ নন, তাই আগে ট্রাইব্যুনালে নিজেকে পক্ষভুক্ত (Impleadment) করার আবেদন জানিয়ে সেখানেই নিজের আপত্তি উত্থাপন করা উচিত ছিল। দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure) সেই সুযোগ দিয়েছে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি রবি চিমালাপতি সংবিধানের ২২৭ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টের ক্ষমতার সীমা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত এবং ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা উচিত।
আদালত পর্যবেক্ষণ করে, যেখানে আইন নিজেই একটি কার্যকর প্রতিকার নির্ধারণ করেছে, সেখানে সেই পথ অনুসরণ না করে সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ২২৭ অনুচ্ছেদকে অধস্তন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের প্রতিটি অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
আদালত আরও মন্তব্য করে, টেন্যান্সি আইন ২০২২ সালে বাতিল হলেও সংশ্লিষ্ট রিপিল আইনে (Repeal Act) পূর্ববর্তী কার্যক্রম ও আইনের অধীনে গৃহীত পদক্ষেপ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে কেবল আইন বাতিল হয়েছে—এই যুক্তির ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নেই বলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
বেঞ্চ আরও লক্ষ্য করে যে, ট্রাইব্যুনালের নথি অনুযায়ী লিজ চুক্তি ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে আবেদনকারী টেন্যান্ট দাবি করেছেন, তিনি গত পাঁচ বছর ধরে ওই জমির লিজভোগী। এই দাবিগুলি আইনগতভাবে টেকসই কি না, তা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালকেই নির্ধারণ করতে হবে। হাইকোর্ট ২২৭ অনুচ্ছেদের অধীনে সেই ধরনের প্রকৃতিগত (Factual) প্রশ্নের নিষ্পত্তি করতে পারে না।
আদালতের সিদ্ধান্ত
সব দিক বিবেচনা করে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট সিভিল রিভিশন পিটিশনটি খারিজ করে দেয়। আদালত জানিয়ে দেয়, আবেদনকারী চাইলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট টেন্যান্সি ট্রাইব্যুনালের সামনে প্রয়োজনীয় আবেদন করতে পারবেন এবং সেখানে নিজের সমস্ত আপত্তি উত্থাপন করতে পারবেন।
একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, এই রায়ে করা পর্যবেক্ষণ শুধুমাত্র রিভিশন আবেদন নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনাল যদি আবেদনকারীর কোনো আবেদন বা আপত্তি বিবেচনা করে, তাহলে এই পর্যবেক্ষণ তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
ফলে আদালত কোনো খরচ (Costs) ধার্য না করেই সিভিল রিভিশন পিটিশন খারিজ করে এবং সংশ্লিষ্ট সব মুলতুবি আবেদনও নিষ্পত্তি হয়েছে বলে ঘোষণা করে।
কেস টাইটেল: Sanaka Murali v. Uddangi Ramanjaneyulu & Anr.
কেস নম্বর: Civil Revision Petition No. 2001 of 2024



