কেরল ওয়াকফ বোর্ডে সরকারি তদারকির নির্দেশ বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট
বোর্ডের নীতিগত সিদ্ধান্তে আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে দ্রুত শুনানির নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

কেরল স্টেট ওয়াকফ বোর্ডকে রাজ্য সরকারের যুগ্মসচিবের (Joint Secretary) তত্ত্বাবধানে পরিচালনার নির্দেশ বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, কেরল হাইকোর্ট ইতোমধ্যেই বোর্ডকে আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা মূলধনী ব্যয় (Capital Expenditure) করতে নিষেধ করেছে। তাই বোর্ডকে আলাদাভাবে একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে রাখার প্রয়োজন নেই।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম. পাঞ্চোলির বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, যুগ্মসচিব ওয়াকফ বোর্ডের এক্স-অফিসিও সদস্য হিসেবে আগের মতোই দায়িত্ব পালন করবেন।
মামলাটি কেরল স্টেট ওয়াকফ বোর্ডের গঠন নিয়ে। ১৯৯৫ সালের ইউনাইটেড ওয়াকফ ম্যানেজমেন্ট, এমপাওয়ারমেন্ট, এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট (২০২৫ সালের সংশোধিত আইন)-এর ১৪ ধারার বিধান অনুযায়ী বোর্ড গঠন করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়ে কেরল হাইকোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হয়।
আবেদনকারীদের দাবি ছিল, বর্তমান বোর্ডে আইন অনুযায়ী দুইজন অ-মুসলিম সদস্য এবং শিয়া সম্প্রদায়ের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নেই। এছাড়া বোর্ডের সচিব নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
এই মামলায় অন্তর্বর্তী আদেশে কেরল হাইকোর্ট বলেছিল, বোর্ড আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না বা বড় ধরনের মূলধনী ব্যয় করতে পারবে না। একই সঙ্গে বোর্ডকে সাময়িকভাবে ওয়াকফ বিষয়ক রাজ্য সরকারের যুগ্মসচিবের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হুজেফা আহমেদি সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দেন, বোর্ডকে বক্তব্য জানানোর সুযোগ না দিয়েই এই অসাধারণ অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী কিছু পদ শূন্য থাকলেও পুরো বোর্ড অকার্যকর হয়ে যায় না এবং তার ক্ষমতাও কেড়ে নেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, কেরল সরকারের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত এবং প্রতিপক্ষের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কে. পরমেশ্বর বলেন, বোর্ডের গঠনে আইনগত ত্রুটি রয়েছে এবং হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশ সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই দেওয়া হয়েছে।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হাইকোর্টের আদেশের যে অংশে বোর্ডকে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও মূলধনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে, তা যথেষ্ট। ফলে বোর্ডকে যুগ্মসচিবের প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে পরিচালনার নির্দেশের আর প্রয়োজন নেই। তাই ওই অংশ বাতিল করা হলো।
তবে সুপ্রিম কোর্ট মামলার মূল বিষয়ে কোনো মতামত দেয়নি। আদালত কেরল হাইকোর্টকে সব পক্ষকে দাবি ও পাল্টা দাবি উপস্থাপনের পূর্ণ সুযোগ দিয়ে দ্রুত জনস্বার্থ মামলাগুলির নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে।

