বধির ও বাকপ্রতিবন্ধী হলেই মানসিকভাবে অক্ষম নন, বলল হিমাচল হাইকোর্ট
জমি ভাগের মামলায় অভিভাবক নিয়োগের দাবি খারিজ করে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ আদালতের

হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি বধির এবং কথা বলতে পারেন না—শুধুমাত্র এই কারণে তাঁকে মানসিকভাবে অসুস্থ বা নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে অক্ষম বলে ধরে নেওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে আদালতের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য অভিভাবক বা Guardian নিয়োগ করতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতাও নেই।
লাহৌল ও স্পিতি জেলার যৌথ মালিকানাধীন একটি জমি ভাগের মামলায় এই পর্যবেক্ষণ করেছে হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট। বিচারপতি জ্যোৎস্না রেওয়াল দুয়া এই মামলার রায় দেন।
মামলার আবেদনকারী নীল চাঁদ এবং আরও কয়েকজন ছিলেন ওই সম্পত্তির যৌথ অংশীদার বা co-sharer। তাঁদেরই একজন, সোম দেব, যৌথ মালিকানাধীন জমি ভাগ করার জন্য হিমাচল প্রদেশ ল্যান্ড রেভিনিউ অ্যাক্ট, ১৯৫৪-এর ১২৩ ধারার অধীনে আবেদন করেছিলেন।
এরপর ১৯ অক্টোবর, ২০২০ সহকারী কালেক্টর দ্বিতীয় শ্রেণি জমি ভাগের পদ্ধতি বা mode of partition নির্ধারণ করেন। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদনকারী কালেক্টরের কাছে যান। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
আবেদনকারীর অন্যতম যুক্তি ছিল, সোম দেব বধির এবং কথা বলতে পারেন না। ফলে নিজের স্বার্থ সঠিকভাবে রক্ষা করার ক্ষমতা তাঁর নেই। তাই দেওয়ানি কার্যবিধি বা Civil Procedure Code-এর Order 32 Rule 3 অনুযায়ী তাঁর জন্য একজন আদালত-নিযুক্ত অভিভাবক বা guardian থাকা প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু হাইকোর্ট এই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
আদালত মামলার নথি খতিয়ে দেখে দেখতে পায়, সোম দেবকে একাধিকবার আদালতের সমন পাঠানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তিনি নিজে একাধিকবার সেই সমন গ্রহণও করেছিলেন। সমনে তিনি হিন্দিতে নিজের স্বাক্ষর করেছিলেন।
অর্থাৎ, তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাদ রাখা হয়নি। তাঁকে যথাযথভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং আদালতের সামনে হাজির হওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু সমন পাওয়ার পরও তিনি আদালতে হাজির হননি। শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ex parte প্রক্রিয়া চালানো হয়।
এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে জানায়, শুধুমাত্র সোম দেব বধির এবং কথা বলতে পারেন না বলেই তাঁকে মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
আদালতের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, Order 32 Rule 3 অনুযায়ী কোনও ব্যক্তির জন্য guardian নিয়োগের প্রয়োজন তখনই তৈরি হবে, যখন প্রমাণ পাওয়া যাবে যে কোনও ধরনের মানসিক দুর্বলতা বা mental infirmity-র কারণে তিনি নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম নন।
কিন্তু এই মামলায় এমন কোনও তথ্য বা প্রমাণ আদালতের সামনে আসেনি, যা থেকে বলা যায় যে সোম দেব নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে অক্ষম ছিলেন।
আদালত আরও লক্ষ্য করে, মামলার পরবর্তী আপিল ও রিভিশন পর্যায়েও সোম দেবকে যথাযথভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনিও নিজে কখনও এমন অভিযোগ করেননি যে তিনি নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে পারছেন না অথবা তাঁর হয়ে কোনও guardian প্রয়োজন।
ফলে হাইকোর্ট আবেদনকারীর করা রিট পিটিশনে কোনও যথেষ্ট কারণ খুঁজে পায়নি। আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেয়। মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনও pending miscellaneous application থাকলে সেগুলিও নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই রায়ের মাধ্যমে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় স্পষ্ট করেছে—শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং মানসিক অক্ষমতা এক বিষয় নয়। একজন ব্যক্তি শুনতে বা কথা বলতে না পারলেও, তার অর্থ এই নয় যে তিনি নিজের সম্পত্তি, অধিকার বা আইনি স্বার্থ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম। guardian নিয়োগের ক্ষেত্রে তাই শুধু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মানসিক সক্ষমতা এবং নিজের স্বার্থ রক্ষার ক্ষমতাও বিবেচনা করতে হবে।
কেস টাইটেল
Neel Chand v. Divisional Commissioner, Mandi and Ors.
কেস নম্বর: CWP No. 13174 of 2026
বিচারপতি: Justice Jyotsna Rewal Dua
রায়ের তারিখ: ৪ আগস্ট, ২০২৬


