খবরাখবর

ছাত্র বিক্ষোভে সহিংসতার অভিযোগে পিআইএল গ্রহণে অনীহা দিল্লি হাইকোর্টের

এনজিওকে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর স্বাধীনতা দিল আদালত

দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভের সময় সংঘটিত কথিত সহিংসতা, পুলিশকর্মীদের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। তবে আদালত আবেদনকারী সংস্থাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা প্রতিনিধিত্ব (Representation) জমা দেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে এবং আইন অনুযায়ী সেই অভিযোগ বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

মামলাটি দায়ের করেছিল বেসরকারি সংস্থা সেভ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন (Save India Foundation)। সংস্থার দাবি, গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত একটি ছাত্র বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করা হয়, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা হয় এবং মধ্য দিল্লির জনজীবন ব্যাহত হয়।

পিটিশনে আরও দাবি করা হয়, এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে ফৌজদারি মামলা শুরু করার জন্য দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হোক। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তির যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ, তার আর্থিক ক্ষতিও দায়ীদের কাছ থেকে আদায়ের নির্দেশ চাওয়া হয়।

এনজিওটি তাদের আবেদনে আরও অভিযোগ করে, বিক্ষোভটি “Cockroach Janta Party” নামে উল্লেখিত একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু পোস্ট ও কনটেন্টের মাধ্যমে বিক্ষোভ চলাকালে বেআইনি কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল বলেও পিটিশনে দাবি করা হয়।

তবে এই আবেদনের শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট বা এমন ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যেই একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাই নতুন করে আদালতের পক্ষ থেকে আলাদা কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলে, সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত যে ব্যবস্থা রয়েছে, সেটিই কার্যকর থাকবে। আবেদনকারী চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন। এরপর কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

আদালত আরও স্পষ্ট করে দেয়, আবেদনকারী যদি আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব জমা দেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ যথাযথভাবে পরীক্ষা করবে এবং তাদের সিদ্ধান্ত আবেদনকারীকে জানাবে। অর্থাৎ, অভিযোগটি উপেক্ষা করা যাবে না; আইন অনুযায়ী তা বিবেচনা করতে হবে।

তবে হাইকোর্ট এই পর্যায়ে দিল্লি পুলিশকে সরাসরি কোনও ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয়নি। একই সঙ্গে আদালত অভিযোগের সত্যতা বা বিক্ষোভে কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়েও কোনও মন্তব্য করেনি।

সবশেষে আদালত জনস্বার্থ মামলাটি নিষ্পত্তি করে জানায়, সেভ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন আইন অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দাখিল করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই আদেশের মাধ্যমে দিল্লি হাইকোর্ট আবারও স্পষ্ট করে দিল যে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, সহিংসতা বা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রথমে বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই যথাযথ পথ। আদালতের সরাসরি হস্তক্ষেপের আগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে তাদের আইনগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত।

কেস টাইটেল: Save India Foundation v. Government of NCT of Delhi & Others (পিআইএল)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button