প্রথম স্ত্রী পাবেন অর্ধেক পেনশন, দ্বিতীয় স্ত্রী পাবেন গ্র্যাচুইটি, বলল কলকাতা হাইকোর্ট
বিবাহের বৈধতা নির্ধারণ না করে পেনশন বণ্টনে কেন্দ্রীয় নিয়মই মানল আদালত

কলকাতা: একজন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর পেনশন ও অন্যান্য অবসরকালীন সুবিধা নিয়ে দুই স্ত্রীর মধ্যে তৈরি হয়েছিল বিরোধ। সেই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, প্রথম স্ত্রী রিনা ইয়াসমিনকে পরিবারের পেনশনের অর্ধেক দিতে হবে। অন্যদিকে, মৃত সরকারি কর্মী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে গ্র্যাচুইটির জন্য মনোনীত করে যাওয়ায়, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী গ্র্যাচুইটির টাকা দ্বিতীয় স্ত্রীই পাবেন।
বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্র এই নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি ছিল মৃত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর পেনশন-সংক্রান্ত সুবিধার দাবিদার দুই পক্ষকে ঘিরে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ওই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর মৃত্যু হয় ২০২৪ সালে। এরপর প্রথম স্ত্রী রিনা ইয়াসমিন পারিবারিক পেনশন এবং গ্র্যাচুইটির দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁকে প্রাপ্য পারিবারিক পেনশন ও গ্র্যাচুইটির সুবিধা দেওয়া হয়নি।
এদিকে মৃত কর্মীর দ্বিতীয় স্ত্রীও পারিবারিক পেনশন এবং compassionate appointment, অর্থাৎ মৃত কর্মীর পরিবারের সদস্য হিসেবে সহানুভূতিমূলক নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। ফলে দুই পক্ষের দাবির কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পেনশন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা আটকে রাখে।
এই পরিস্থিতিতে প্রথম বিয়ের একটি বিবাহবিচ্ছেদের শংসাপত্রও কর্তৃপক্ষের সামনে পেশ করা হয়েছিল। তবে রিনা ইয়াসমিনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পরবর্তীতে ওই বিবাহবিচ্ছেদের শংসাপত্রকে সংশ্লিষ্ট কাজি বাতিল এবং অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। কারণ, পরে জানা যায় যে প্রথম বিয়েটি Special Marriage Act-এর অধীনে হয়েছিল।
ফলে প্রশ্ন ওঠে, মৃত সরকারি কর্মীর দুই বিয়ের মধ্যে কোনটি আইনত বৈধ ছিল এবং কোন বিয়েকে কার্যকর হিসেবে ধরা হবে।
তবে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, Article 226-এর অধীনে রিট মামলার শুনানি করতে গিয়ে আদালত দুই বিয়ের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারে না।
আদালতের বক্তব্য ছিল, এই পর্যায়ের রিট-জুরিসডিকশনে মৃত কর্মীর দুই বিয়ের মধ্যে কোনটি টিকে থাকবে এবং কোনটি বাতিল হবে, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা আদালতের কাজ নয়।
এর পরিবর্তে আদালত নজর দেয় Central Civil Services (Pension) Rules, 2021-এর দিকে। বিশেষ করে Rule 50(8)(c)-এর বিধান আদালত বিবেচনা করে।
এই নিয়মে বলা হয়েছে, কোনও সরকারি কর্মীর দুই স্ত্রী থাকলে, পারিবারিক পেনশন দুজনের মধ্যে সমান ভাগে দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই নিয়মের ভিত্তিতেই আদালত রিনা ইয়াসমিনকে পরিবারের পেনশনের অর্ধেক দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
কলকাতা হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ছয় সপ্তাহের মধ্যে রিনা ইয়াসমিনকে পারিবারিক পেনশনের ৫০ শতাংশ প্রদান করতে হবে।
তবে গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা। মৃত সরকারি কর্মী গ্র্যাচুইটির জন্য তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে nominee বা মনোনীত ব্যক্তি করেছিলেন। তাই প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী গ্র্যাচুইটির অর্থ দ্বিতীয় স্ত্রীই পাবেন বলে আদালত জানায়।
একই সঙ্গে দুই পক্ষের করা compassionate appointment-এর আবেদনও আইন অনুযায়ী বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে কেউ যোগ্য প্রমাণিত হলে, নিয়ম মেনে তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
এই নির্দেশের মাধ্যমে আদালত পেনশন এবং গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও স্পষ্ট করেছে। পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পেনশন বিধি অনুযায়ী সমান ভাগের ব্যবস্থা থাকলেও, গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে মৃত কর্মীর বৈধ nomination গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট রিট পিটিশনটি নিষ্পত্তি করে দেয়। মামলায় কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে খরচ বা costs আরোপ করা হয়নি।
কেস টাইটেল
Rina Yasmin v. The Union of India & Ors.
কেস নম্বর: WPA 1062 of 2025
বিচারপতি: Justice Reetobroto Kumar Mitra
রায়ের তারিখ: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬



