হাইকোর্ট

আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তির আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ রাজস্থান হাইকোর্টের

৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্ত বকেয়া আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ, একাধিক আইন স্নাতকের আবেদন পড়ে ছিল

আইন পড়া শেষ করার পর আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করতে হলে বার কাউন্সিলে নথিভুক্তি বা Enrolment অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই নথিভুক্তির আবেদনই যদি দীর্ঘদিন পড়ে থাকে, তাহলে সমস্যায় পড়তে হয় সদ্য আইন পাশ করা পড়ুয়াদের। এমনই একটি মামলায় এবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল রাজস্থান হাইকোর্ট। আদালত রাজস্থান বার কাউন্সিলকে নির্দেশ দিয়েছে, আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তির জন্য জমা পড়ে থাকা সমস্ত আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে এই কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এ বিচারপতি শুভা মেহতা এই রায় দেন। মামলাটির শুনানি শেষ হয়েছিল ২৭ জুলাই, ২০২৬-এ। মামলাটি করেছিলেন ২০২৫ সালে জয়পুরের Dr. Bhimrao Ambedkar Law University থেকে আইন পাশ করা সুরেন্দ্র খিনচি।

মামলার নথি অনুযায়ী, আইন পাশ করার পর সুরেন্দ্র খিনচি প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং নির্ধারিত ফি-সহ রাজস্থান বার কাউন্সিলের কাছে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তির আবেদন জমা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি ই-মেলের মাধ্যমে আলাদা একটি আবেদন বা representation-ও পাঠিয়েছিলেন।

কিন্তু তাঁর আবেদনটি দীর্ঘদিন নিষ্পত্তি হয়নি। এর পিছনে অন্যতম কারণ ছিল রাজস্থান বার কাউন্সিলের নির্বাচন এবং তার সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক সমস্যা।

মামলার শুনানির সময় আদালতকে জানানো হয়, সেই সময় আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তির আবেদনগুলি যাচাই ও নিষ্পত্তি করার জন্য কোনও কার্যকর কমিটিই ছিল না। এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু পরে ১২ মার্চ, ২০২৬-এ সেই কমিটি বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে একাধিক আইন স্নাতকের Enrolment আবেদন আটকে যায়।

এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি রাজস্থান হাইকোর্টের সামনে আসে।

আদালত অবশ্য লক্ষ্য করে, এর মধ্যে রাজস্থান বার কাউন্সিলের নির্বাচন শেষ হয়েছে এবং নির্বাচনের ফলও ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি অনেকটাই কেটে গিয়েছে।

বিচারপতি শুভা মেহতা আরও লক্ষ্য করেন, শুধু সুরেন্দ্র খিনচির আবেদনই নয়, একইভাবে আরও অনেক প্রার্থীর আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তির আবেদন পড়ে রয়েছে।

আদালতের মতে, যেহেতু বার কাউন্সিলের নির্বাচন সম্পূর্ণ হয়েছে এবং ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে, তাই আবেদনগুলি আর ঝুলিয়ে রাখার কারণ নেই। নির্ধারিত নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে আবেদনগুলি নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

হাইকোর্টের বক্তব্য ছিল, “In the present circumstances…” অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতিতে আবেদনকারী সুরেন্দ্র খিনচির আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া উপযুক্ত। একইসঙ্গে আদালতের নজরে এসেছে যে, আরও অনেক প্রার্থীর আবেদন একইভাবে পড়ে রয়েছে।

এই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে আদালত শুধু আবেদনকারীর আবেদন নয়, আদেশের তারিখ পর্যন্ত রাজস্থান বার কাউন্সিলের কাছে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তির জন্য পড়ে থাকা সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে।

আদালত স্পষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে সমস্ত বকেয়া Enrolment আবেদন নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে। শুধু আবেদন নিষ্পত্তি করলেই হবে না, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের বিষয়টি জানাতেও হবে।

এর ফলে সদ্য আইন পাশ করা বহু প্রার্থী, যাঁদের আবেদন প্রশাসনিক কারণে আটকে ছিল, তাঁদের নথিভুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত এগোনোর সুযোগ তৈরি হল।

শেষ পর্যন্ত সুরেন্দ্র খিনচির দায়ের করা রিট পিটিশন আদালত মঞ্জুর করে। একইসঙ্গে সংযুক্ত আবেদনগুলিও নিষ্পত্তি করা হয়।

এই রায়ের মাধ্যমে রাজস্থান হাইকোর্ট মূলত একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে—প্রশাসনিক বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কারণে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তির আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা যায় না। বার কাউন্সিলের নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পর নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদনগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করাই কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button