খবরাখবর

নাজিয়া এলাহি খানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে অস্বীকৃতি সুপ্রিম কোর্টের, ‘আইনি প্রক্রিয়া মেনেই আসুন’

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার নেত্রী এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার নাজিয়া এলাহি খানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার মৌখিক আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। অভিযোগ, একটি পডকাস্টে তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন।

সোমবার বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ এবং বিচারপতি শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে মৌখিক আবেদন বা শর্টকাট পদ্ধতিতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাওয়া যায় না। আদালত আবেদনকারীকে আইন অনুযায়ী নিয়মিত পিটিশন দাখিল করার পরামর্শ দেয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

শুনানির সময় বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখা উচিত। তাঁর কথায়, প্রতিটি বিষয়ে শর্টকাট পদ্ধতি গ্রহণের প্রবণতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করছে।

আদালত আরও জানায়, যদি কোনো ব্যক্তি আইন ভঙ্গ করে থাকেন, তাহলে প্রথমে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ জানাতে হবে। সেখানে প্রতিকার না মিললে তবেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া উচিত।

বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে জড়িত মামলাগুলি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এগুলিকে অযথা প্রচারের বিষয় না বানিয়ে আইন অনুযায়ী তদন্তের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

কেন আবেদন গ্রহণ করল না সুপ্রিম কোর্ট

আদালত বলেছে, এ ধরনের অভিযোগ তদন্তের জন্য দেশে ইতিমধ্যেই আইনগত ব্যবস্থা রয়েছে। তাই সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মৌখিক আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে আদালত আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া মেনে যথাযথ পিটিশন দাখিল করার স্বাধীনতা দিয়েছে।

কী নিয়ে বিতর্ক

সম্প্রতি নাজিয়া এলাহি খানের একটি পডকাস্টের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং ইসলামের ইতিহাসের কিছু বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর একাধিক মুসলিম সংগঠন, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। অভিযোগ করা হয়, তাঁর বক্তব্য মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং তা অবমাননাকর।

বিতর্ক দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ওঠে।

পুলিশের তদন্ত চলছে

অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বই মেট্রোপলিটন অঞ্চলে (এমএমআর) নাজিয়া এলাহি খানের বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো এবং ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত সংক্রান্ত ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখছে।

বিজেপির অবস্থান

বিতর্কের পর বিজেপির জম্মু ও কাশ্মীর ইউনিট নাজিয়া এলাহি খানের মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই মন্তব্য সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত মতামত, এটি বিজেপির সরকারি অবস্থান নয়।

বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে। এখনও কোনো আদালত অভিযোগের সত্যতা বা নাজিয়া এলাহি খানের ফৌজদারি দায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান স্পষ্ট—যে কোনো পরবর্তী বিচারিক হস্তক্ষেপ চাইলে তা আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিক আবেদন করেই করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button