
২০১৮ সালের নববর্ষ উদ্যাপনের সময় দিল্লিতে উৎসবের গুলিতে এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় বিহারের বিজেপি বিধায়ক রাজু কুমার সিংকে চার বছরের সাধারণ কারাদণ্ড দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত। একই সঙ্গে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করেছে। এই অর্থ সম্পূর্ণভাবে নিহত অর্চনা গুপ্তর পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে।
শনিবার বিশেষ বিচারক বিশাল গোগনে এই সাজা ঘোষণা করেন। আদালত ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ৩০৪ পার্ট-২ ধারায়, অর্থাৎ হত্যার উদ্দেশ্য না থাকলেও এমন কাজ করা যাতে মৃত্যুর সম্ভাবনা সম্পর্কে অভিযুক্তের জ্ঞান ছিল, সেই অপরাধে রাজু কুমার সিংকে চার বছরের সাধারণ কারাদণ্ড দেন। এছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে অস্ত্র আইনে তাঁকে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এর এক দিন আগেই আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সাজা ঘোষণার আগে রাজু কুমার সিং আদালতের কাছে প্রবেশন বা শর্তসাপেক্ষ মুক্তির আবেদন করেছিলেন। তাঁর আইনজীবী দাবি করেন, গুলি চালানোর উদ্দেশ্য কাউকে হত্যা করা ছিল না এবং একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত রেকর্ডও নির্দোষ। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
মামলার ঘটনা ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাত এবং ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যবর্তী সময়ের। দক্ষিণ দিল্লির ফতেহপুর বেরির একটি ফার্মহাউসে নববর্ষ উপলক্ষে একটি পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, উদ্যাপনের সময় রাজু কুমার সিং তাঁর লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র থেকে আকাশের দিকে গুলি ছোড়েন। সেই গুলির একটি পার্টিতে উপস্থিত অতিথি অর্চনা গুপ্তর গায়ে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরই বিধায়কের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়।
৬ জুন দেওয়া ৯৭ পাতার রায়ে আদালত উৎসবের সময় নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, বিয়ে, উৎসব বা সামাজিক অনুষ্ঠানে আনন্দ উদ্যাপনের নামে গুলি চালানো দেশের জন্য একটি বিপজ্জনক প্রবণতা, যা বহু মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়, এই মামলাতেও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ফরেনসিক প্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে রাজু কুমার সিংয়ের বেপরোয়া গুলিই অর্চনা গুপ্তর মৃত্যুর কারণ। আদালত মনে করেছে, হত্যার সরাসরি উদ্দেশ্য না থাকলেও তিনি জানতেন যে এ ধরনের কাজ মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আইপিসির ৩০৪ পার্ট-২ ধারা প্রযোজ্য।
এই রায় উৎসবের সময় আগ্নেয়াস্ত্রের বেপরোয়া ব্যবহার যে গুরুতর অপরাধ এবং এতে প্রাণহানি ঘটলে কঠোর আইনি শাস্তি হতে পারে, সেই বার্তাই আবারও স্পষ্ট করেছে।



