হাইকোর্ট

স্ত্রীর আয় প্রমাণের দায় তাঁর নয়, স্বামীরই আয় জানাতে হবে: ভরণপোষণ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের

ভরণপোষণ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট রায় দিয়েছে যে, স্বামীর আয়ের প্রমাণ দেওয়ার সম্পূর্ণ দায় স্ত্রীর ওপর চাপানো যাবে না। আদালত বলেছে, ভরণপোষণের মামলা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক (adversarial) মামলা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক কল্যাণমূলক (social welfare) প্রক্রিয়া। তাই স্বামীকেই তাঁর প্রকৃত আয় ও আর্থিক অবস্থার সমস্ত তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরতে হবে।

বিচারপতি গজেন্দ্র সিং এই রায় দেন গরিমা ও তাঁর নাবালক সন্তানের করা একটি ক্রিমিনাল রিভিশন মামলায়। এর আগে ইন্দোরের পারিবারিক আদালত স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করলেও নাবালক সন্তানের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৬ মে গরিমার সঙ্গে সতীশের বিয়ে হয় এবং ২০১৫ সালে তাঁদের একটি সন্তান জন্ম নেয়। ২০২৪ সালে স্ত্রী ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারায় ভরণপোষণের আবেদন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী তাঁর প্রতি নির্যাতন করেছেন, ভরণপোষণ দেননি এবং তিনি আলাদা থাকতে বাধ্য হয়েছেন। আবেদনে দাবি করা হয়, স্বামী এমটেক ও এমবিএ ডিগ্রিধারী, ইন্দোরের একটি বেসরকারি সংস্থায় ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত এবং তাঁর মাসিক আয় প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। এছাড়া একটি বেসরকারি কোম্পানি, একাধিক সম্পত্তি, গাড়ি ও ভাড়া থেকে অতিরিক্ত আয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, স্বামী আদালতে দাবি করেন, স্ত্রী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই বৈবাহিক বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাগুলি মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, স্ত্রী প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক এবং নিজেও কর্মসংস্থানের যোগ্য।

পারিবারিক আদালত মনে করেছিল, স্ত্রী যথেষ্ট কারণ ছাড়াই আলাদা থাকছেন এবং স্বামীর আয় মাত্র ৬০ হাজার টাকা। সেই কারণে স্ত্রীকে ভরণপোষণ না দিয়ে শুধু সন্তানের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে। আদালত জানায়, স্ত্রীর দায়ের করা এফআইআর ইতিমধ্যেই নথিভুক্ত রয়েছে এবং তিনি নাবালক সন্তানের দেখাশোনা করছেন। তাই তাঁকে যথেষ্ট কারণ ছাড়া আলাদা থাকছেন বলে ধরা যায় না। শুধুমাত্র স্বামী দাম্পত্য সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার মামলা করেছেন—এই কারণ দেখিয়ে স্ত্রীকে ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত করা আইনসম্মত নয়।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে, ভরণপোষণ মামলায় স্বামীর আয়ের উৎস প্রমাণের দায় সম্পূর্ণভাবে স্ত্রীর ওপর চাপানো ভুল। বিচারপতি বলেন, “আয়ের উৎস গোপন করা যেতে পারে, কিন্তু সামাজিক অবস্থান গোপন করা যায় না।” স্বামী তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের জীবনযাত্রার মান অনুযায়ী ভরণপোষণ দেওয়ার দায় এড়াতে পারেন না।

সব দিক বিবেচনা করে হাইকোর্ট পারিবারিক আদালতের আদেশ সংশোধন করে স্ত্রী গরিমার জন্য মাসিক ৩০ হাজার টাকা এবং নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে মাসিক ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে। এই অর্থ আবেদন দায়েরের তারিখ থেকেই কার্যকর হবে। ইতিমধ্যে দেওয়া অর্থ নতুন হিসাবের সঙ্গে সমন্বয় করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মামলার রায়

garima-v-satish-2216036

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button