হোমস্টে মালিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় স্থগিতাদেশ কর্ণাটক হাইকোর্টের, মূল অভিযুক্তের বিচার চলবে

কর্ণাটকের কুর্গ (কোডাগু) জেলার একটি হোমস্টেতে এক মার্কিন নারী পর্যটককে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে কর্ণাটক হাইকোর্ট। আদালত হোমস্টের মালিকের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি কার্যক্রমে আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করেছে। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই নির্দেশ মামলার মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়ায় কোনও প্রভাব ফেলবে না।
বিচারপতি এম. নাগপ্রসন্ন হোমস্টে মালিকের দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলির আইনি ভিত্তি আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগপত্রে যে আইনের ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, তার মধ্যে কিছু ধারার প্রয়োগ নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
শুনানিতে হোমস্টে মালিকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অঙ্গদ কামাথ আদালতে যুক্তি দেন, তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগপত্রে ১৯৪৬ সালের Foreigners Act-এর বিধান প্রয়োগ করেছে, অথচ ওই আইন ইতিমধ্যেই বাতিল হয়ে নতুন অভিবাসন কাঠামো কার্যকর হয়েছে। তাই বাতিল হয়ে যাওয়া আইনের অধীনে মামলা চালানো আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
এছাড়া অভিযোগপত্রে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ২৩৯ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট অপরাধের বিষয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়। তবে আদালত প্রাথমিকভাবে মন্তব্য করে, এই ঘটনায় হোমস্টে মালিকের ওপর আইন অনুযায়ী অপরাধের তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক ছিল—এমন কোনও স্পষ্ট বিধান আপাতত দেখা যাচ্ছে না। এই কারণেই আদালত তাঁর বিরুদ্ধে চলা সমস্ত কার্যক্রমে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ এপ্রিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩৩ বছর বয়সী এক মার্কিন নারী পর্যটক কর্ণাটকের কুর্গের একটি হোমস্টেতে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় হোমস্টের ২৫ বছর বয়সী এক কর্মী তাঁর পানীয়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় পদার্থ মিশিয়ে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ। অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্ত কর্মীকে গ্রেফতার করে। তিনি বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ট্রায়াল কোর্ট তাঁর জামিনের আবেদনও খারিজ করে দেয়।
এর প্রায় এক সপ্তাহ পরে, ১৯ এপ্রিল পুলিশ হোমস্টের মালিককে গ্রেফতার করে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তিনি ঘটনাটি জানার পরও তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাননি এবং তথ্য গোপন করেছিলেন। তবে হোমস্টে মালিক শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ধর্ষণের ঘটনায় কোনওভাবেই জড়িত নন এবং অপরাধ সংঘটনে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই। পরে ২ মে তিনি জামিন পান।
জামিন পাওয়ার পর হোমস্টে মালিক কর্ণাটক হাইকোর্টে অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। তাঁর দাবি, তদন্তকারী সংস্থা শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কোনও অভিযোগই আনেনি। শুধুমাত্র অপরাধের তথ্য না জানানোর অভিযোগেই তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে টেকসই নয়।
হাইকোর্ট জানিয়েছে, হোমস্টে মালিকের বিরুদ্ধে মামলার বৈধতা নিয়ে আরও বিস্তারিত শুনানি প্রয়োজন। সেই কারণে আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার আগের মতোই চলবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন আদালত হোমস্টে মালিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনসম্মত কি না, তা বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করবে।



