খবরাখবর

আবগারি নীতি মামলায় কেজরিওয়াল-সিসোদিয়াদের জবাব দিতে চার সপ্তাহ সময় দিল দিল্লি হাইকোর্ট

সিবিআইয়ের ডিসচার্জ চ্যালেঞ্জের জবাবের পর মামলাটি একসঙ্গে শুনবে আদালত, ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে তদন্তকারী সংস্থার সওয়াল

দিল্লির আবগারি নীতি মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়া-সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের ডিসচার্জের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা সিবিআইয়ের করা চ্যালেঞ্জের জবাব দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ সময় দিল দিল্লি হাইকোর্ট। সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, বিচারপতি মনোজ জৈন এই নির্দেশ দেন।

আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, জবাব দাখিলের পর মামলাটি ধাপে ধাপে ভাগ করে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে শুনানি করা হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট

দিল্লি আবগারি নীতি মামলায় ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বিশেষ বিচারক ২৩ জন অভিযুক্তকেই মামলা থেকে ডিসচার্জ করেছিলেন। ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে রিভিশন পিটিশন দায়ের করেছে সিবিআই।

অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে সিবিআইয়ের রিভিশন পিটিশনের গ্রহণযোগ্যতা বা maintainability নিয়ে প্রাথমিক আপত্তি তোলা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ট্রায়াল কোর্টের বিস্তারিত ডিসচার্জ অর্ডার প্রকাশের মাত্র প্রায় চার ঘণ্টার মধ্যে সিবিআই রিভিশন পিটিশন দায়ের করেছিল।

অভিযুক্তদের আরও দাবি, সিবিআইয়ের আবেদনে ট্রায়াল কোর্টের কোন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বেআইনি বা গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ ছিল, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।

১০৩ পাতার অতিরিক্ত নথি নিয়েও আপত্তি

অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে সিবিআইয়ের ১০৩ পৃষ্ঠার অতিরিক্ত লিখিত বক্তব্য নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, অতিরিক্ত লিখিত বক্তব্যে এমন কিছু যুক্তি ও কারণ রয়েছে, যা মূল রিভিশন পিটিশনে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

সিনিয়র অ্যাডভোকেট বিক্রম চৌধুরী যুক্তি দেন, মামলার maintainability নিয়ে আপত্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা মামলার মূল ভিত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই মূল মামলার বিষয়বস্তু বা merits নিয়ে শুনানির আগে এই প্রাথমিক আপত্তির নিষ্পত্তি করা উচিত।

তিনি রিভিশন পিটিশন দায়ের করার ক্ষেত্রে তদন্তকারী আধিকারিকের আইনগত সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সিবিআইয়ের আপত্তি

সিবিআই অবশ্য অভিযুক্তদের এই আপত্তির বিরোধিতা করেছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, অতিরিক্ত লিখিত বক্তব্যে যে যুক্তিগুলি তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলি নতুন কোনও ভিত্তি নয়।

কেজরিওয়ালের হয়ে সওয়াল করা সিনিয়র অ্যাডভোকেট এন. হরিহরণ অতিরিক্ত লিখিত বক্তব্য ও নথির জবাব দেওয়ার সুযোগ চান।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি মনোজ জৈন সমস্ত অভিযুক্তকে তাঁদের জবাব দাখিলের জন্য চার সপ্তাহ সময় দেন।

‘খণ্ড খণ্ড শুনানি নয়’, স্পষ্ট আদালত

আদালত একইসঙ্গে জানিয়ে দেয়, মামলার শুনানি খণ্ড খণ্ডভাবে করা হবে না। অর্থাৎ, এক পর্যায়ে maintainability এবং পরে মূল মামলার merits—এইভাবে আলাদা করে শুনানি না করে মামলাটি সামগ্রিকভাবে শোনা হবে।

বেঞ্চ স্পষ্টভাবে বলে, “Arguments will be heard comprehensively. No piecemeal hearing. Arguments will be heard in one go.”

অর্থাৎ, যুক্তিতর্ক সামগ্রিকভাবে শোনা হবে; খণ্ড খণ্ডভাবে শুনানি করা হবে না এবং একবারেই সমস্ত যুক্তি শোনা হবে।

৫ অক্টোবর থেকে সিবিআইয়ের সওয়াল

দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহে সিবিআই তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করবে। বিশেষভাবে ৫ ও ৬ অক্টোবর সিবিআই বা প্রসিকিউশনের সওয়াল শুরুর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, চার সপ্তাহের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আর কোনও অতিরিক্ত মুলতবি দেওয়া হবে না। মামলায় ইতিমধ্যে যে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ কার্যকর রয়েছে, সেটিও বহাল থাকবে।

আদালতের সিদ্ধান্ত

দিল্লি হাইকোর্ট অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়া এবং অন্যান্য উত্তরদাতাদের সিবিআইয়ের রিভিশন পিটিশনের জবাব ও প্রাথমিক আপত্তি জানানোর জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছে।

একইসঙ্গে, ৫ ও ৬ অক্টোবর সিবিআইয়ের সওয়াল শুরুর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, মামলাটি সামগ্রিকভাবে শুনানি হবে এবং চার সপ্তাহের পর আর কোনও মুলতবি দেওয়া হবে না।

মামলার বিবরণ

মামলার নাম: Central Bureau of Investigation v. Kuldeep Singh & Ors.

মামলা নম্বর: CRL.REV.P.-134/2026 এবং সংযুক্ত পিটিশন

বিচারপতি: বিচারপতি মনোজ জৈন

রায়ের তারিখ: ১৭ আগস্ট ২০২৬

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button