অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় তাহির হুসেনের সাজা ঘোষণা ৩১ জুলাই
মৃত্যুদণ্ড চাইল দিল্লি পুলিশ, বিরোধিতা করে বিরলতম মামলার যুক্তি প্রতিরক্ষার

২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার সময় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-র কর্মকর্তা অঙ্কিত শর্মা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়া প্রাক্তন আম আদমি পার্টি (এএপি) কাউন্সিলর তাহির হুসেন এবং আরও চারজনের সাজা কত হবে, সেই বিষয়ে রায় সংরক্ষণ করেছে দিল্লির একটি আদালত। শুনানিতে দিল্লি পুলিশ আদালতের কাছে তাহির হুসেন ও অন্যান্য দোষীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানায়। পুলিশের দাবি, এটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস, ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আদালত জানিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই সাজা সংক্রান্ত চূড়ান্ত আদেশ ঘোষণা করা হবে।
এই মামলার সূত্রপাত হয় দয়ালপুর থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর নং ৬৫/২০২০-এর মাধ্যমে। অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নিহত অঙ্কিত শর্মার বাবা রবীন্দ্র কুমার। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে দাঙ্গা চলাকালীন অঙ্কিত শর্মা প্রয়োজনীয় গৃহস্থালির সামগ্রী কিনতে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে চাঁদবাগ পুলিয়ার কাছে একটি নর্দমা থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে দিল্লি পুলিশের অভিযোগ ছিল, দাঙ্গার সময় একটি উন্মত্ত জনতা অঙ্কিত শর্মার ওপর হামলা চালায় এবং সেই ঘটনায় তাহির হুসেনসহ কয়েকজন সরাসরি জড়িত ছিলেন।
চলতি মাসের শুরুতেই বিচারিক আদালত তাহির হুসেন, নাজির, আসিম, জাভেদ এবং আনাসকে হত্যা, দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর মতো একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে। তবে আদালত তাহির হুসেনকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে খালাস দেয়।
সাজার পরিমাণ নির্ধারণের জন্য মামলাটি অতিরিক্ত দায়রা বিচারক প্রবীণ সিংয়ের আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। শুনানিতে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘটনাটি এমন ধরনের অপরাধ, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডই উপযুক্ত হবে।
প্রসিকিউশনের দাবি, অঙ্কিত শর্মাকে প্রথমে অপহরণ করা হয়। এরপর তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং একাধিক গুরুতর আঘাত করার পর হত্যা করা হয়। আদালতে সরকারি কৌঁসুলি বলেন, “অঙ্কিত শর্মাকে অপহরণ করে নির্দয়ভাবে মারধর করার পর হত্যা করা হয়েছিল।”
দিল্লি পুলিশের আইনজীবী আরও বলেন, নিহতের শরীরে যে ধরনের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, তা হত্যার ভয়াবহতা এবং নিষ্ঠুরতারই প্রমাণ। তাই এই ঘটনায় দোষীদের প্রতি কোনও ধরনের সহানুভূতি দেখানোর সুযোগ নেই। তিনি আদালতে মন্তব্য করেন, “যারা নিজেরা দয়া চায়, তাদেরও অন্যের প্রতি দয়া দেখানো উচিত।” এই যুক্তির ভিত্তিতেই তিনি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানান।
অন্যদিকে, তাহির হুসেন এবং অন্যান্য দোষীদের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করেন। তাঁদের বক্তব্য, ভারতের আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কেবলমাত্র “বিরলতমের মধ্যে বিরল” (Rarest of Rare) ক্ষেত্রে দেওয়া যায়। তাঁদের দাবি, এই মামলায় সেই মানদণ্ড পূরণ হয়নি।
প্রতিরক্ষার পক্ষ আরও জানানো হয়, আদালত ইতিমধ্যেই এই মামলায় কয়েকজন অভিযুক্তকে খালাস দিয়েছে। এছাড়া তাহির হুসেনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি। তাই সাজা নির্ধারণের সময় আদালতের উচিত সমস্ত প্রশমনমূলক (mitigating) বিষয় বিবেচনা করা। বিশেষ করে, বিচারাধীন অবস্থায় তাহির হুসেনের আচরণও আদালতের নজরে আনা হয়।
উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে অতিরিক্ত দায়রা বিচারক প্রবীণ সিং সাজা সংক্রান্ত আদেশ সংরক্ষণ করেন। আদালত জানিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই তাহির হুসেন এবং অন্য চার দোষীর শাস্তির পরিমাণ ঘোষণা করা হবে। সেই রায়ে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেবে, নাকি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অন্য কোনও শাস্তি নির্ধারণ করবে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট সকলের।
কেস টাইটেল: State v. Tahir Hussain & Others (FIR No. 65/2020, Dayalpur Police Station)



