একই দাবিতে বারবার পক্ষভুক্তির আবেদন চলবে না, জানাল সুপ্রিম কোর্ট
তবে ক্রস-অবজেকশনে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হলে পক্ষভুক্তির সুযোগ থাকবে আদালতের মতে

একই সম্পত্তি বিরোধে একবার পক্ষভুক্তির (impleadment) আবেদন খারিজ হয়ে গেলে, পরে কেবল ভিন্ন আইনি বিধানের আশ্রয় নিয়ে একই দাবিতে আবার আবেদন করা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, যদি ক্রস-অবজেকশন (Cross-Objection)-এর কারণে নতুন আইনি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে পরবর্তী ক্রেতার স্বার্থ সরাসরি প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সেই কার্যধারায় তাকে পক্ষভুক্ত হওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের ডিভিশন বেঞ্চ ২৭ জুলাই, ২০২৬ এই রায় দেয়।
মামলার পটভূমি
এই মামলার সূত্রপাত একটি দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে। সঞ্জীব কুমার ও শকুন্তলা দেবীসহ অন্যদের মধ্যে মৃত গিরধারি লালের সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
বিচারিক আদালত (ট্রায়াল কোর্ট) প্রথমে মামলাটি খারিজ করে দেয়। আদালতের মতে, মূল বাদীর দত্তকপুত্র হওয়ার দাবি প্রমাণিত হয়নি। পরে প্রথম আপিল আদালত ওই সিদ্ধান্ত আংশিক পরিবর্তন করে। আদালত সঞ্জীব কুমারকে ভগবান দাইয়ের আইনগতভাবে দত্তক নেওয়া ছেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশের মালিকানা তাঁর বলে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে বিবাদীদের ওই অংশ অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে নিষেধ করা হয়।
এদিকে মামলা বিচারাধীন থাকাকালীন সম্পত্তির অন্য একটি অংশ নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে দুই ব্যক্তি কিনে নেন। তাঁরা দ্বিতীয় আপিলে নিজেদের পক্ষভুক্ত করার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ২০০০ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় আপিল অনুপস্থিতির কারণে খারিজ হয়ে যায়। পরে তা পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করা হলে ওই দুই ক্রেতা আবারও পক্ষভুক্তির আবেদন করেন। একই সঙ্গে তাঁরা আপিল পুনরুদ্ধার এবং বিলম্ব মাফের আবেদনও জানান। হাইকোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করলে সঞ্জীব কুমার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় ‘রেস জুডিকাটা’ (Res Judicata) নীতির প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। এই নীতির মূল কথা হলো, কোনো বিষয় একবার আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেলে একই পক্ষ একই বিষয়ে বারবার মামলা বা আবেদন করতে পারে না।
আদালত জানায়, কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত সঠিক হোক বা ভুল—যতক্ষণ না তা উচ্চতর আদালতে বাতিল হচ্ছে, ততক্ষণ তা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক।
রায়ে আদালত উল্লেখ করে, “আদালতের একটি সিদ্ধান্ত সঠিক বা ভুল—উভয় ক্ষেত্রেই তা বাধ্যতামূলক। আইন বা তথ্যগত ভুল থাকলেও আপিল ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না।”
এরপর বেঞ্চ সিভিল প্রসিডিউর কোডের অর্ডার ১ রুল ১০ এবং অর্ডার ২২ রুল ১০-এর মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করে।
আদালত জানায়, অর্ডার ১ রুল ১০ প্রয়োজনীয় পক্ষকে মামলায় যুক্ত করার বিষয়ে প্রযোজ্য, আর অর্ডার ২২ রুল ১০ বিচারাধীন অবস্থায় সম্পত্তির স্বার্থ বা অধিকার অন্য কারও কাছে হস্তান্তর হলে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রযোজ্য।
তবে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, যদি একই বিক্রয় দলিলের ভিত্তিতে একজন ক্রেতার পক্ষভুক্তির আবেদন আগে অর্ডার ১ রুল ১০ অনুযায়ী বিচার করে খারিজ করা হয়ে থাকে, তাহলে একই উদ্দেশ্যে পরে অর্ডার ২২ রুল ১০-এর অধীনে নতুন আবেদন করা যাবে না। আদালতের ভাষায়, এটি কেবল ভিন্ন আইনি বিধানের আড়ালে একই বিষয়কে নতুন করে উত্থাপন করার চেষ্টা।
কেন ক্রস-অবজেকশনের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত
তবে সুপ্রিম কোর্ট মনে করে, ক্রস-অবজেকশনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল।
আদালত লক্ষ্য করে, আগে কখনও ওই ক্রেতারা ক্রস-অবজেকশনে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন করেননি। পরে মূল আপিল অনুপস্থিতির কারণে খারিজ হয়ে গেলেও শুধুমাত্র ক্রস-অবজেকশন পুনরুজ্জীবিত হয়। ফলে নতুন একটি আইনি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে সম্পত্তিতে ক্রেতাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
আদালত আরও উল্লেখ করে, মূল পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা বা যোগসাজশের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ক্রস-অবজেকশনের কার্যধারায় ওই ক্রেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া ন্যায়সঙ্গত।
সুপ্রিম কোর্টের রায়
সব দিক বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট আংশিকভাবে আপিল মঞ্জুর করে। আদালত হাইকোর্টের সেই নির্দেশ বাতিল করে, যেখানে মূল দ্বিতীয় আপিল পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছিল এবং পরবর্তী ক্রেতাদের সেখানে পক্ষভুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে ক্রস-অবজেকশনের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে ওই কার্যধারায় ক্রেতাদের পক্ষভুক্ত হতে দেওয়ায় আইনি কোনো বাধা নেই।
আদালত শেষ পর্যন্ত আংশিকভাবে আপিল মঞ্জুর করে এবং মামলায় খরচ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশ দেয়নি।
কেস টাইটেল: Sanjiv Kumar v. Shakuntla Devi and Others



