দলবদল বিরোধী আইনের ব্যাখ্যা চ্যালেঞ্জে কেন্দ্রকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের
দলীয় সংযুক্তির অজুহাতে অযোগ্যতা এড়ানোর ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কপিল সিব্বল

দলবদল বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে কেন্দ্র সরকারকে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (২৭ জুলাই) আদালত প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বলের দায়ের করা একটি আবেদনের শুনানি করে কেন্দ্রের কাছে জবাব তলব করেছে। আবেদনে সংবিধানের দশম তফসিল (Tenth Schedule)-এর সেই ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যার ফলে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার (Merger) দাবি তুলে বিধায়ক বা সাংসদরা দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে অযোগ্যতা এড়াতে পারেন।
বিচারপতি পি. এস. নরসিমহা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ মামলার শুনানি করে জানায়, দশম তফসিলের কার্যকারিতা নিয়ে বহু সমস্যা রয়েছে। তবে আদালত একই সঙ্গে মন্তব্য করে, এই আইন সংসদই প্রণয়ন করেছে এবং এর নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়টি মূলত আইনপ্রণেতাদের ক্ষেত্রেই পড়ে।
মামলার পটভূমি
এই মামলায় আবেদনকারী হিসেবে নিজেই সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি আদালতে যুক্তি দেন, রাজনৈতিক দল একীভূত হওয়ার বিধান (Merger Provision)-এর বর্তমান ব্যাখ্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রভাব ফেলছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে আইনের যে ব্যাখ্যা কার্যকর রয়েছে, তাতে একদল বিধায়ক বা সাংসদ রাজনৈতিক দলের সংযুক্তির অজুহাত দেখিয়ে দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে অযোগ্য হওয়া থেকে রেহাই পাচ্ছেন।
কপিল সিব্বলের বক্তব্য, এর ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দেন, তা পরবর্তীকালে আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরিবর্তনের মাধ্যমে কার্যত বদলে যেতে পারে। অর্থাৎ, ভোটারদের দেওয়া জনাদেশ রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তিনি আদালতকে আরও জানান, গোয়া-সহ বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক দল সংযুক্তি সংক্রান্ত যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, সেই ধরনের একাধিক মামলা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। তাই এই মামলাটিকেও সেই সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির সঙ্গে একসঙ্গে শুনানি করা যেতে পারে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
শুনানির শুরুতে বেঞ্চ জানতে চায়, কেন এই আবেদন সরাসরি সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা হয়েছে।
জবাবে কপিল সিব্বল বলেন, বিষয়টি শুধু একটি নির্দিষ্ট মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
শুনানির সময় বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে।
আদালত বলে,
“দশম তফসিলের উদ্দেশ্য হলো আইনপ্রণেতাদের মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করা। আমরা এর কার্যকারিতা দেখছি। দশম তফসিল নিয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু এটি কে তৈরি করেছে? এটি তো সাংসদদেরই তৈরি করা আইন।”
বেঞ্চ আরও জানায়, এই ধরনের উদ্বেগ মূলত আইন প্রণয়নের কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সাধারণভাবে এগুলি আইনসভাকেই বিবেচনা করতে হয়।
আদালতের সিদ্ধান্ত
উভয় পক্ষের প্রাথমিক বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র সরকারকে নোটিস জারি করে।
একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দেয়, এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যে বিচারাধীন দলীয় সংযুক্তি এবং দলত্যাগ বিরোধী আইন সংক্রান্ত অন্যান্য মামলার সঙ্গে একত্রে বিবেচনা করা হবে।
তবে এই পর্যায়ে আদালত আবেদনের মূল বিষয়ে কোনও মতামত বা সিদ্ধান্ত দেয়নি। মামলার সাংবিধানিক প্রশ্নগুলির ওপর পরবর্তী শুনানিতে বিস্তারিত আলোচনা হবে।



