খবরাখবর

জনস্বার্থ মামলা ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট

পিআইএল ও আদালত অবমাননা মামলার অপব্যবহারের অভিযোগে বার কাউন্সিল ও পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ

জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) এবং আদালত অবমাননার আবেদনকে ব্যবহার করে সম্পত্তির মালিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে উঠে আসা গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিস্তৃত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, প্রাথমিকভাবে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। তাই বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণা ২১ জুলাই ২০২৬-এ দেওয়া এক আদেশে দিল্লি বার কাউন্সিল এবং দিল্লি পুলিশকে অভিযোগগুলি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, তদন্তে অন্য কোনও ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাঁদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

মামলার পটভূমি

এই বিষয়টি তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত আদালত অবমাননার মামলার শুনানির সময় সামনে আসে। ওই মামলাগুলিতে অভিযোগ করা হয়েছিল, দিল্লির বিভিন্ন সম্পত্তিতে অনুমোদনহীন নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আদালতের আগের নির্দেশ সত্ত্বেও দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (MCD) যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।

মামলার শুনানির সময় মালব্য নগর থানার স্টেশন হাউস অফিসার (SHO)-এর দাখিল করা একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়। সেই রিপোর্টে এমন কিছু তথ্য উঠে আসে, যা থেকে ইঙ্গিত মেলে যে কয়েকজন ব্যক্তি আদালতের মামলা ব্যবহার করে সম্পত্তির মালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণা বলেন, আদালতের সামনে উপস্থাপিত নথিপত্রে “অত্যন্ত চমকে দেওয়ার মতো তথ্য” উঠে এসেছে।

কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট এবং শুনানিতে উপস্থাপিত বক্তব্যের ভিত্তিতে আদালত পর্যবেক্ষণ করে, বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে একটি যোগসাজশ থাকার ইঙ্গিত মিলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে জনস্বার্থ মামলা এবং পরে আদালত অবমাননার আবেদন করা হতো। এরপর সেই মামলাগুলিকে হাতিয়ার করে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকদের কাছে গিয়ে অর্থ দাবি করা হতো।

আদালত তার আদেশে উল্লেখ করেছে,

“কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট পর্যালোচনা করলে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে একটি যোগসাজশ ছিল… এবং পরে সম্পত্তির মালিকদের কাছে গিয়ে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।”

শুনানির সময় নারায়ণ কুমার কাশ্যপ নামে এক ব্যক্তি নিজে আদালতে উপস্থিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেন। তিনি জানান, তিনি কেবল মূল জনস্বার্থ মামলায় স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার আবেদন বা অতিরিক্ত হলফনামা সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তী মামলাগুলিতে তাঁর নামে যে স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে, সেগুলি জাল করা হয়েছে।

এই অভিযোগগুলিকে আদালত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলেও, এই পর্যায়ে কারও বিরুদ্ধে অপরাধমূলক দায় নির্ধারণ করেনি। তবে আদালতের মতে, অভিযোগগুলি এতটাই গুরুতর যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আদালতের সিদ্ধান্ত

দিল্লি হাইকোর্ট অ্যাডভোকেট এস. কে. শুক্লা এবং অ্যাডভোকেট প্রশান্ত চৌহানের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য বিষয়টি দিল্লি বার কাউন্সিলের কাছে পাঠায়।

একই সঙ্গে আদালত দক্ষিণ জেলার উপ-পুলিশ কমিশনার (DCP)-কে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। তদন্তে প্রয়োজন হলে এফআইআর দায়ের করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত আরও জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন যদি অন্য কোনও ব্যক্তি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণিত হন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই নির্দেশের মাধ্যমে আদালত তিনটি আদালত অবমাননার মামলার নিষ্পত্তি করে।

এই রায়ে দিল্লি হাইকোর্ট স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, আদালতের প্রক্রিয়া বা জনস্বার্থ মামলাকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার কিংবা অর্থ আদায়ের মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানোর অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং এমন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।

কেস টাইটেল: Naresh Chauhan v. Government of NCT of Delhi & Ors. (Connected Case)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button