যন্তর মন্তরে ইন্টারনেট বন্ধের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দিল হাইকোর্ট
ছাত্র আন্দোলন শেষ হওয়ায় মামলার শুনানি আর এগোল না, আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি আদালতের

দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় ছাত্রদের শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে চলা আন্দোলনের সময় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা (PIL) প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। সোমবার (২৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনকারীর অনুরোধ মঞ্জুর করে মামলাটি প্রত্যাহার হিসেবে খারিজ করে দেয়।
আদালত জানায়, যেহেতু ছাত্রদের আন্দোলন ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে, তাই আবেদনকারী সংস্থা আর মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় না। সেই প্রেক্ষিতে আদালত আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি দেয় এবং মামলার কার্যক্রমের ইতি টানে।
মামলার পটভূমি
এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিল Software Freedom Law Centre, India (SFLC.in)। দিল্লি সরকার (Government of NCT of Delhi) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছিল।
আবেদনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Ministry of Home Affairs) ১৭ জুলাই থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে জারি করা একাধিক নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ওই নির্দেশগুলির মাধ্যমে যন্তর মন্তরের চারপাশে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
আবেদনকারীর দাবি ছিল, এই সিদ্ধান্ত ভারতের সংবিধানের ১৪, ১৯ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। তাদের বক্তব্য ছিল, সরকার শুধু “জনস্বার্থে জরুরি অবস্থা” (public emergency) এবং “জননিরাপত্তা” (public safety)-র মতো সাধারণ শব্দ ব্যবহার করেছে, কিন্তু কেন সম্পূর্ণভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা প্রয়োজন ছিল, তার পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট বা বস্তুনিষ্ঠ তথ্য আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতের কাছে জনস্বার্থ মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান।
ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি প্রত্যাহার হিসেবে খারিজ করে দেয়।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে,
“আবেদনটি প্রত্যাহার হিসেবে খারিজ করা হলো।”
এর ফলে আদালত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের বৈধতা বা সাংবিধানিকতা নিয়ে কোনও পর্যবেক্ষণ বা সিদ্ধান্ত দেয়নি।
আবেদনকারীর যুক্তি
আবেদনে আরও বলা হয়েছিল, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার আগে প্রশাসন কম কঠোর বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করেনি। যেমন, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, জনতা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা বা নির্দিষ্ট এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক আইন প্রয়োগের মতো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব ছিল।
আবেদনকারী আরও দাবি করেছিল, ভবিষ্যতে ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করার কোনও নির্দেশ জারি হলে তা কার্যকর হওয়ার আগে অথবা কার্যকর হওয়ার সময়ই প্রকাশ্যে আনতে হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা সংস্থা চাইলে দ্রুত আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।
এছাড়া আবেদনে Telecommunications Act, 2023 এবং Telecommunications (Temporary Suspension of Services) Rules, 2024-এর বিধানের উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট নির্দেশগুলির আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
আদালতের সিদ্ধান্ত
দিল্লি হাইকোর্ট আবেদনকারীর অনুরোধ মেনে জনস্বার্থ মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়। ফলে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করার সরকারি সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত ছিল কি না, সেই বিষয়ে আদালত কোনও মতামত দেয়নি।
মামলাটি শুধুমাত্র আবেদন প্রত্যাহারের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হওয়ায়, ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রশ্ন নিয়ে প্রয়োজন হলে নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথও খোলা থাকল।
কেস টাইটেল: SFLC.in (Software Freedom Law Centre, India) v. Government of NCT of Delhi & Ors.



