NEET-UG বিক্ষোভ মামলায় সব পক্ষই ন্যায়বিচার পাবে, জানালেন প্রধান বিচারপতি
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির আগে আদালতের নিরপেক্ষ অবস্থানের বার্তা দিলেন প্রধান বিচারপতি

ভারতে NEET-UG 2026-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দায়ের হওয়া একাধিক জনস্বার্থ মামলার (PIL) শুনানির আগে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই মামলায় আদালত কোনো এক পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি দেখবে না, বরং আইন ও সংবিধানের আলোকে সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন কমিশনের (UNCITRAL) ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “যে পক্ষ আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচারের যোগ্য, সে অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবে। কেউ আদালতে মামলা করেছে বলেই আদালত কেবল তার বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নেয় না। আদালত সব পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি, মামলার প্রকৃতি, আইন এবং সংবিধানের নীতিগুলি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়।”
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলাগুলির শুনানি হওয়ার কথা। এর মধ্যে একটি জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দিল্লির জন্তর মন্তরে চলা বিক্ষোভ কভার করতে গিয়ে বহু সাংবাদিক ও ক্যামেরাপার্সন হামলার শিকার হয়েছেন। আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, এই হামলার নিরপেক্ষ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক।
আবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই মামলা সরকারের পক্ষে বা আন্দোলনকারীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য করা হয়নি। একইভাবে কোনো টেলিভিশন চ্যানেলের সম্পাদকীয় অবস্থান নিয়েও আদালতের মতামত চাওয়া হয়নি। বরং মূল প্রশ্ন হলো, কোনো সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা কেবল তাঁদের প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয় অবস্থানের কারণে ভিড়ের আক্রমণ, যৌন নিগ্রহ, মারধর, সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া বা প্রাণনাশের হুমকির শিকার হতে পারেন কি না।
আবেদনকারীদের দাবি, ১৮ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে একাধিক সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী হামলা, ভয়ভীতি এবং বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার মতো ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। এমনকি এক নারী টেলিভিশন সাংবাদিককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো বিচারিক সিদ্ধান্তও হয়নি।
পিটিশনে সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশের ভিডিও রেকর্ডিং, ড্রোন ও বডি-ক্যামেরার ফুটেজ, ওয়্যারলেস যোগাযোগের নথি, কন্ট্রোল রুমের রেকর্ড, মোতায়েন সংক্রান্ত তথ্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং সাংবাদিকদের ধারণ করা মূল ভিডিও সংরক্ষণের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভিড় নিয়ন্ত্রণে যুক্ত ছিলেন না এমন কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং দায়ের হওয়া অভিযোগ ও এফআইআরের অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশও চাওয়া হয়েছে।
অন্য একটি জনস্বার্থ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠনের আবেদন করা হয়েছে। ওই কমিশন দিল্লি ও বিহারে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অতিরিক্ত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগের অভিযোগ তদন্ত করবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশও চাওয়া হয়েছে।
এই মামলায় আবেদনকারীদের বক্তব্য, এটি কেবল একটি আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার, নিরস্ত্রভাবে সমাবেশ করার অধিকার এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মতো মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোনো সমাবেশে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে আইন, প্রয়োজনীয়তা এবং সামঞ্জস্যতার নীতি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। কয়েকজন ব্যক্তির আচরণের কারণে পুরো শান্তিপূর্ণ সমাবেশের বিরুদ্ধে নির্বিচারে ব্যবস্থা নেওয়া আইনসম্মত নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুন মাসে অনলাইন সংগঠন Cockroach Janta Party (CJP)-এর ডাকে NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। পরে পরিবেশ আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও জোরদার হয়। ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের ডাককে কেন্দ্র করে দিল্লিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও দিল্লি পুলিশ তা অস্বীকার করে। ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও চলছে।
কেস টাইটেল:
In Re: Police Action During NEET-UG 2026 Protest & Connected Public Interest Litigations (Pending before the Supreme Court)



