হাইকোর্ট

বৈধ বিবাহ বা লিভ-ইন সম্পর্ক প্রমাণ না হওয়ায় ভরণপোষণে না জানালো হাইকোর্ট

মায়ের দাবি খারিজ, তবে জৈবিক নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ বহাল রাখল আদালত

বৈধ বিবাহ কিংবা লিভ-ইন সম্পর্কের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে না পারলে সিআরপিসির ১২৫ ধারায় কোনও নারী ভরণপোষণের অধিকার দাবি করতে পারেন না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে এক মহিলার ভরণপোষণের আবেদন খারিজ করেছে আলাহাবাদ হাইকোর্ট। তবে ওই সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া জৈবিক নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের অধিকার বহাল রেখেছে আদালত।

বিচারপতি লক্ষ্মীকান্ত শুক্ল বলেন, মামলার নথি ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আবেদনকারী বৈধ বিবাহের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। একইসঙ্গে, পক্ষদ্বয়ের মধ্যে লিভ-ইন সম্পর্ক ছিল—এমন দাবির পক্ষেও কোনও বক্তব্য বা প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।

মামলার পটভূমি

মামলাটি করেন মঞ্জু সোনকর। তিনি কৌশাম্বীর পারিবারিক আদালতের ২০২২ সালের ১৫ জুলাইয়ের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করেন।

পারিবারিক আদালত সিআরপিসির ১২৫ ধারার অধীনে তাঁর ভরণপোষণের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের মত ছিল, তিনি প্রতিপক্ষের আইনসম্মত স্ত্রী নন। তবে তাঁদের সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া জৈবিক নাবালক সন্তানের জন্য ভরণপোষণ মঞ্জুর করা হয়।

হাইকোর্টে আবেদনকারীর দাবি ছিল, তিনি জানতেন না যে প্রতিপক্ষের আগে থেকেই একটি বৈধ বিবাহ ছিল। তিনি সরল বিশ্বাসে ওই ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলেন। তাই প্রতিপক্ষের প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকার কারণে তাঁর নিজের ভরণপোষণের দাবি খারিজ করা উচিত নয়।

নিজের দাবির সমর্থনে তিনি Anupama Pradhan v. Sultan Pradhan এবং সুপ্রিম কোর্টের Chanmuniya v. Virendra Kumar Singh Kushwaha মামলার রায়ের ওপর নির্ভর করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি লক্ষ্মীকান্ত শুক্ল আবেদনকারীর উল্লেখ করা দুই রায়ই বিশদভাবে পর্যালোচনা করেন। আদালত জানায়, ওই মামলাগুলির পরিস্থিতি বর্তমান মামলার সঙ্গে মিল নেই।

আদালত উল্লেখ করে, Anupama Pradhan মামলাটি ওড়িশা হাইকোর্টের একটি রায়, যেখানে তফসিলি উপজাতিভুক্ত ব্যক্তিদের বিশেষ সামাজিক ও আইনগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। ফলে সেই রায়ের নীতিমালা এই মামলায় প্রযোজ্য নয়।

অন্যদিকে, Chanmuniya মামলায় সুপ্রিম কোর্ট দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাসকারী নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে ভরণপোষণের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করেছিল। কিন্তু বর্তমান মামলার ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে আদালত মন্তব্য করে।

হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায়, প্রতিপক্ষ শুরু থেকেই বৈবাহিক সম্পর্কের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে আবেদনকারীও আদালতের সন্তুষ্টির জন্য এমন কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেননি, যা থেকে বৈধভাবে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল বলে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে, মামলার আবেদনপত্র কিংবা সাক্ষ্য-প্রমাণের কোথাও এমন দাবি করা হয়নি যে দু’জন দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে বসবাস করতেন। ফলে লিভ-ইন সম্পর্ক সংক্রান্ত আইনি নীতিও এই মামলায় প্রযোজ্য হতে পারে না।

আদালতের সিদ্ধান্ত

সমস্ত নথি ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট জানায়, পারিবারিক আদালত যথাযথভাবে তথ্য-প্রমাণ বিবেচনা করেই রায় দিয়েছে। সেই আদেশে কোনও আইনি ত্রুটি, তথ্যের বিকৃতি বা এখতিয়ারগত ভুল আদালতের নজরে আসেনি।

বিচারপতি শুক্ল বলেন, রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগ করে পারিবারিক আদালতের আদেশে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনও কারণ এই মামলায় নেই।

ফলে মঞ্জু সোনকরের ফৌজদারি রিভিশন আবেদন খারিজ করে দেয় আলাহাবাদ হাইকোর্ট। এর ফলে পারিবারিক আদালতের আগের আদেশ বহাল থাকে। অর্থাৎ, আবেদনকারী নিজে ভরণপোষণ পাবেন না, তবে তাঁর জৈবিক নাবালক সন্তানের জন্য নির্ধারিত ভরণপোষণ আগের মতোই কার্যকর থাকবে।

কেস টাইটেল: Manju Sonkar v. State of U.P. and Another

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button